১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

অভাবী নারীর সংখ্যা মানুষের ভীড় জমেছে বন্দর নগরী বেনাপোলে

আনিছুর রহমান, বেনাপোল
নদী ভাঙ্গন খরা বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বামী পরিত্যাক্তা সহ নানা কারনে অভাবী মানুষের ভীড় জমেছে বন্দর নগরী বেনাপোলে। দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন ছেলে মেয়েদের মুখে তুলে দেওয়ার আসায় এরা বিভিন্ন জেলা সহ এখানকার স্থানীয় বিশেষ করে নারীরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত ভীড় করে থাকে রাষ্ট্রের এই প্রধান ফটক বেনাপোলে। কারন সীমান্তের ভারত সংলগ্ন রুট গুলো কাটা তারের বেড়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য তাদের অনেকের চোরাচালানি পেশা হারিয়ে গেছে। এ পথে ভারত থেকে ফেরত আসা যাত্রীরা কেউ শীতের চাদর, কেউ কম্বল কেউ কসমেটিক্স সহ নানা ধরনের পণ্য নিয়ে আসে। সেই পণ্য ক্রয়ের আসায় এসব নারীরা ভীড় জমায়। বেনাপোল চেকপোষ্টে প্রতিদিন দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক নারী এলো মেলো ঘুরা-ঘুরি করে। কোন সময় তাদের পরিচিত জনেরা পণ্য নিয়ে আসে কোন সময় দুর দুরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা কিছু শীত বস্ত্র সহ অন্যান্য পণ্য আনে আর তারা যখন ইমিগ্রেশন শেষে বাহিরে আসে তখন এসব নারী তাদের পিছনে ছোটে ওই পণ্য ক্রয়ের জন্য। গতকাল সকালে দেখা যায় ভারত থেকে একজন যাত্রী আসার সময় একটি কম্বল নিয়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পার হলে প্রায় ১০ জন নারী ওই কম্বল ক্রয়ের জন্য যাত্রী পিছন পিছন ছোটে। অসহায় এসব নারীরা কোন সময় যাত্রীর নিকট থেকে পণ্য পায় কোন সময় পায় না। সারাদিন না খেয়ে দিন কাটিয়ে সন্ধ্যার সময় ঘরে ফেরে। এসব কম্বল ক্রয় করতে আসা ফাতেমা নামে এক অর্ধবয়সী নারী বলেন, আমি অভাব অনটনের জন্য ঝিনাইদাহ থেকে বেনাপোল ঘর ভাড়া করে থাকি। আর ভারত থেকে ফেরা যাত্রীদের নিকট থেকে পণ্য ক্রয় করি। তা কোন সময় পাই কোন সময় পাই না। ঋনে জর্জরিত। কিস্তির টাকা দিতে পারছি না। খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। স্বামী অসুস্থ সে ঝিনাইদহে আছে। সামিনা নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবতী বলেন সে স্বামী পরিত্যাক্তা। তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। কোন ব্যবসা নেই যে তাই করব। তাছাড়া পাসপোর্ট ভিসা বন্ধ থাকায় ও খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। আগে পাসপোর্টে ভিসা ছিল ভারত গিয়ে এলাকার লোকের ওর্ডার নিয়ে যা আনতাম তা বিক্রি করে সংসার ঠিক মত চলত। এখন খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। এরকম অনেকে জানায় কেউ ইচ্ছা করে এখানে এসে ভীড় জমায় না। পেটের দায়ে সকলে কাজ না পেয়ে এসব কাজ করতে বাধ্য । আবার কেউ কেউ জানায় বাসায় কাজ করলে মাসে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা দেয়। তা দিয়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে চলে না। আবার অনেকের স্বামী অসুস্থ থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় এসে ধাক্কা ধাক্কি করে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের জন্য সারাদিন বসে থাকতে হয়। সারাদিন রাস্তায় দৌড়াদৌড়ির ফলে কান্ত হয়ে বসার জায়গা না পেয়ে রাস্তার আইল্যান্ডের উপর বসে পড়ি। বেনাপোল চেকপোষ্টের একাধিক পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, আমরা পরিবহন এর লোক সহ অনেকে পাসপোর্ট যাত্রীদের উপর নির্ভরশীল। ভারত ভিসা না দেওয়ায় যাত্রী কমে যাওয়ায় পরিবহন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে। আমরাও চরম বেকার। আর এসব নারীরাতো স্বাদে পথে বের হয়নি। এরা অভাব অনটন ছেলে মেয়ের লেখা পড়া দুবেলা খাওয়া আবার অনেকের অসুস্থ স্বামীর ঔষুধ ক্রয়ের এখানে আসে দু টাকা রোজগার করার জন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়