সৈকত হোসেন
বেনাপোল চেকপোস্টে চৌধুরী মার্কেটে অবস্থিত শীর্ষ হুন্ডি পাচারকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স পদ্মা ইন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটার আতাহার আলী। গত ২৮নভেম্বর তারিখে ভারতের পেট্রাপোল বর্ডারে ভাই ভাই মার্কেটে অবস্থিত মেসার্স মোহাম্মদ ইন্টারপ্রাই। যার প্রোপ্রাইটার আব্দুল রাজ্জাক বলে জানা গেছে। তার সাথে আতাহারের ধীর্ঘদিন ধরে হুন্ডির ব্যবসা রয়েছে বলে অভিযোগ। সে সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভারতের রাজ্জাকের কোটি কোটি টাকা চেকপোস্ট পদ্মা ইন্টারপ্রাইজ আতাহারের নিকট জমা হয়। আতাহার সুযোগ বুঝে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার, পাসপোর্ট যাত্রী ও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে হুন্ডির টাকা পাঠিয়ে থাকে। গত ২৮/১১/২০২৫ সারাদিন লেনদেন করার পর আতাহারের কাছে ৪০ লাখ টাকা রয়ে যায় বলে সীমান্ত এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এই টাকার প্রকৃত মালিক পেট্রাপোলের আব্দুর রাজ্জাক। সেই ৪০ লাখ টাকা নিজে সরিয়ে রেখে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রচার করতে থাকে চেকপোস্ট মাছ বাজারের সামনে থেকে সব টাকা ছিনতাই হয়ে গেছে। প্রথমে প্রচার করে ২ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে ১৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের গল্প প্রচার করে আতাহার গা দেয়। পরে প্রচার হয় আসল সত্য। ছিনতাইয়ের নামে আত্মসাতকৃত টাকা ৪০ লাখ টাকা বলে জানা যায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনও দৌড়ঝাপ শুরু করে। কিন্তু আতাহারের সাথে স্থানীয় প্রশাসন যোগাযোগ করতে চাইলে সে দেখা করেনি। অবস্থা বেগতিক দেখে বেনাপোলের হুণ্ডি আতাহার আলী পেট্রাপোলের রাজ্জাককে ৪০ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে এটা অস্বীকার করতে চাপ দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা রাজ্জাক স্বীকার করলে আতাহার আটক হতে পারে। এতে তাদের হুণ্ডি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে রাজ্জাককে ভয় দেখিয়ে তার মুখ বন্দ করে। এ কারণে ভয়ে রাজ্জাক মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে রাজ্জাক বেনাপোলের কিছু বিএনপির নেতা-কর্মীকে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এভাবে ছিনতাই নাটকের নামে রাজ্জাকের ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের ফন্দি এটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আতাহারের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মতামত জানা যায়নি। চেকপোস্টের ব্যবসায়ী সূত্র বলছে, আতাহার আলী দীর্ঘদিন যাবত ভারতের পেট্রাপোল বর্ডারের মোহাম্মদ ইন্টারপ্রাইজ আব্দুল রাজ্জাকের সাথে হুন্ডি ব্যবসা করে আসছে। হুন্ডি ব্যবসা করে আতাহার বেনাপোল বড় আঁচড়া গ্রামে ৪ তলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি তৈরি করেছে। শিকড়ী ও বড় আঁচড়া মাঠে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি। এছাড়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার মালিক বনে গেছে এই হুণ্ডি আতাহার। যা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়বে। সাথে সাথে আতাহার এর ব্যবহৃত মোবাইল সিম ট্যাকিং করলে রাজ্জাকের সাথে হুন্ডির ব্যবসার সব ভয়েস পাওয়া যাবে। স্থানীয়দের দাবি আতাহার আলীর কোনো বৈধ ব্যবসা নেই তাহলে এতো সম্পদের মালিক কি ভাবে হয়। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উদ্ধার যাবে ছিনতাইয়ের আত্মসাতকৃত ৪০ লাখ হুন্ডির টাকা। এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অবহিত করা হয়। হয়তো তিনি নতুন বলে বেশিদূর এগুতে পারেননি। তবে দুজন দারোগাকে এ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেলেও অদৃশ্য কারণে সেটিও থেমে গেছে।

