জীবনযাত্রার পরিবর্তিত ধরন, ধূমপান, ভেজাল ও দূষিত খাবার গ্রহণ, পরিবেশদূষণসহ নানা কারণে দ্রুত বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। ক্যান্সার রোগীদের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত চার দশকে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অন্তত ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ ক্যান্সার রোগী রয়েছে এবং প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ রোগী নতুন করে যোগ হচ্ছে। ক্যান্সারে আক্রান্তদের বেশির ভাগই চিকিৎসার জন্য আসে রোগের শেষ পর্যায়ে।এর ফলে ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেশি। অথচ চিকিৎসকদের মতে, রোগের প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগের কাছাকাছি।দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধাও অনেক কম। যেমন অভাব রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবলের, তেমনি অভাব রয়েছে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতির।ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অপরিহার্য পদ্ধতি রেডিওথেরাপি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেডিওথেরাপি মেশিনের অভাবে রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। মেডিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি ইন বাংলাদেশের (এমওএসবি) তথ্য মতে, অর্ধেকের বেশি ক্যান্সার রোগীর রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। এসব রোগীকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিতে অন্তত ২০৯টি রেডিওথেরাপি মেশিন প্রয়োজন।
বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে মেশিন রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮টি, অচল ১২টি। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য একটি দিনও অনেক মূল্যবান। মাসের পর মাস অপেক্ষার কারণে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। ‘অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশ’-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপি পেতে গড়ে প্রায় চার মাস সময় লাগে।ছয় মাস সময় লাগে জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে। বেসরকারি হাসপাতালে গড়ে ২৩ দিন সময় লাগে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে কোবাল্ট মেশিনে রেডিওথেরাপিতে জনপ্রতি খরচ ১০০ টাকা। এর সঙ্গে জনপ্রতি প্ল্যানিং খরচ এক হাজার ৫০০ টাকা। লিনিয়ার মেশিনে খরচ ২০০ টাকা এবং প্ল্যানিং খরচ এক হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে লিনিয়ার মেশিনে রেডিওথেরাপির খরচ সাড়ে চার থেকে আট হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্ল্যানিং খরচ ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বেশির ভাগ রোগীর পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চমূল্যে এই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। একই পরিস্থিতি কিছু রোগ নির্ণয় পরীক্ষার ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পিইটি/সিটি স্ক্যান করানোর জন্য তিন-চার মাস অপেক্ষা করতে হয়।
বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। খাদ্যে ভেজাল, পরিবেশদূষণ ও তামাক নিয়ন্ত্রণসহ ক্যান্সারের সম্ভাব্য কারণগুলো মোকাবেলার উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

