১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নির্বাচন দোরগোড়ায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসাবে সময় বাকি আছে দুই মাসের মতো। আর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। মাঝখানে অবশিষ্ট আছে মাত্র একটি দিন।কিন্তু এখনো মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বা শঙ্কা কাজ করছে। কোনো কোনো রাজনীতিবিদের কথায়ও উঠে আসছে এ ধরনের আশঙ্কার কথা। আমাদের বিশ্বাস, তফসিল ঘোষিত হলে এ ধরনের আশঙ্কা অনেকটাই কেটে যাবে।প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত।
গত রবিবার সকালে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করার জন্য ইসির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। ইসি সূত্র আগেই জানিয়েছিল, তফসিল ঘোষণার আগে ইসি প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে। সে অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ইসির সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
এই আনুষ্ঠানিকতার পরই সিইসি যেকোনো সময় জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি হতে পারে আগামী বৃহস্পতিবার। জানা গেছে, এরই মধ্যে ভাষণ রেকর্ড করার জন্য বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) চিঠি দেওয়া হয়েছে।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, রবিবার প্রধান উপদেষ্টাকে সিইসি জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি ‘সঠিক ও সুন্দরভাবে’ এগোচ্ছে। এরই মধ্যে নাগরিকরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে, যা দেশে নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করেছে।প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সিইসি প্রধান উপদেষ্টা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রধান উপদেষ্টা ইসির প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলো থেকে এবারের নির্বাচন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ এবার একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। পৃথক ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তদুপরি গণভোট প্রশ্নে বিভ্রান্তি এবং মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের একটি উত্তরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলতে হবে। এ বিষয়েও আপত্তি রয়েছে বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মক ভোটেও তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তা ছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত দলগুলো গণভোট অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই খারাপ। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচন যত কাছাকাছি আসে, অবস্থা তত খারাপ হয়। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এখনো বড় কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। অনেকের মতে, আসন্ন নির্বাচনে এটি হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার পরও আমরা আশাবাদী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়