বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ঘাটতি আবারও স্পষ্ট হয়েছে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের প্রায় ১১ লাখ গাড়িচালক মাসের পর মাস ধরে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স পাচ্ছেন না। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার উদাহরণ নয়, বরং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও পেশাগত ক্ষতিরও প্রতীক। বিদেশ গমন, চাকরিপ্রাপ্তি কিংবা নিয়মিত যানবাহন চালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড এ কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বহু মানুষের।এসংক্রান্ত কাজে ঠিকাদার নিয়োগ দিতে না পারার যে করুণ চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একটি জাতীয় ভোগান্তির প্রতিচ্ছবি।
ঘটনা হলো, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্সের সঙ্গে বিআরটিএর পাঁচ বছরের চুক্তি গত জুলাইয়ে শেষ হওয়ায় চার মাস ধরে সব ধরনের কার্ড মুদ্রণ বন্ধ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করা ছিল নিয়মতান্ত্রিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। অথচ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সেই প্রস্তুতি না থাকায় আজ জমে থাকা লাইসেন্সের সংখ্যা ১১ লাখে পৌঁছেছে; ডিসেম্বর শেষে তা ১২ লাখ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ঘন ঘন পরিবর্তন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রযুক্তিগত খাতগুলোতে সক্ষমতা সংকট—এসব মিলিয়ে বিআরটিএর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট। অতীতে একইভাবে টাইগার আইটির সঙ্গে চুক্তি জটিলতায় ১২ লাখের বেশি আবেদন ঝুলে থাকার অভিজ্ঞতা থেকেও সংস্থাটি শিক্ষা নেয়নি। বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) এক সপ্তাহের মধ্যে দরপত্র আহ্বানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এই আশ্বাসটি মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কতটুকু দ্রুত ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এ অবস্থা প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে নতুন ঠিকাদারি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করা এবং ই-লাইসেন্সকে কার্যকরভাবে বৈধতা দেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা। বিআরটিএকে শুধু ‘জরুরি’ নয়, দেশের সব বৈধ চালকের জন্য দ্রুত স্মার্ট কার্ড সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। জনভোগান্তি লাঘবে সরকারি সংস্থার এমন ব্যর্থতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই সংকট প্রমাণ করে, সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে তার মূল্য দিতে হয় দেশের জনগণকে। সরকারের উচিত এই অব্যবস্থাপনার দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য একটি শক্তিশালী ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।

