সুুন্দর সাহা
বেনাপোলের আলোচিত সিএণ্ডএফ এজেন্ট রাতুল এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল লতিফ ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন। কি কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে সেটি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে গত ২৫/০৯/২০২৫ ইং তারিখে ভারত থেকে নো-এন্ট্রির পণ্য ভর্তি একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। ট্রাকটিতে কি পণ্য আছে সেটি পরীক্ষণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বার বার তাগাদা দেয়ার পর দীর্ঘ পৌনে তিনমাস পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গত ১৫ ডিসেম্বর ট্রাকটি খুলে অর্ধেক পরিমাণ পণ্য পায়। যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার উপরে। বাকি পণ্য কাস্টমস এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ট্রাক থেকে লোপাট করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পণ্য চালানটি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পর পন্য চালানটি বেনাপোলের আলোচিত সিএণ্ডএফ এজেন্ট রাতুল এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল লতিফের নামে প্রবেশ করে কাস্টমস সূত্র জানায়। ট্রাকটি আটক হওয়ার পরে লোচিত সিএণ্ডএফ এজেন্ট রাতুল এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল লতিফ কয়েকদিন গা ঢাকা দেন। তার মুঠোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সূত্র জানায়, ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ফেলে যাওয়া ট্রাক পৌনে তিনমাস পরে কাস্টমস খোলার পর বিপুল পরিমান কাগজপত্র বিহীন নিষিদ্ধ মেডিসিন, শাড়ী, থ্রি-পিচ, চাদর, কসমেটিক্স, বডি স্প্রে উদ্ধার হয়েছে। তবে ভারতীয় ট্রাক এইচ আর ৩৮-আই-২৪৮২ নং ট্রাকে গাড়ির অর্ধেক পণ্য পাওয়া যাওয়ায় নানান প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাকের বাকি পণ্য বিশেষ ব্যবস্থায় সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ ডিস্বের সোমবার দুপুরে ট্রাকটি খুলে কাগজপত্র বিহীন বিপুল পরিমান এসব পণ্য গণনা করে গাড়ি সিলগালা করে চলে যায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বর্তমান কমিশনার নাকি নন টেকার। তাহলে তার সময়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে একের পর পণ্য চালান কিভাবে আসছে আর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কিভাবে বের হয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে যতেষ্ট বিতর্ক। তাছাড়া নন-টেকার কমিশনারের সময়ে কিভাবে ৩ নম্বর গ্রুপের পরীক্ষণ এবং শুল্কায়ণের রাজস্ব কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট এআরও (সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা)-রা কিভাবে কাঁচামালের মাঠ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন? এসব প্রশ্ন এখন বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে। এই বন্দরে একের পর এক ঘটে চলেছে অনিয়ম-দুর্নীতি। দেশের বৃহৎস্থল বন্দর বেনাপোল। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে কে বা কারা বন্দরে পণ্যভর্তি ট্রাক নিয়ে প্রবেশ করছে তা নিয়ে অদৃশ্য কারণে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ উদাসীন। সুত্র মতে গত ২৫/০৯/২০২৫ ইং তারিখে ভারত থেকে ট্রাকটি বেনাপোল স্থল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। ট্রাকটি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পর থেকে নানান অভিযোগ ওঠে। ট্রাক প্রবেশের পর অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রাকটি রেখে হেলপার ড্রাইভার পালিয়ে যায় ভারতে। ওই সময় কাস্টমস কর্তারা বলেছিলেন, পণ্য চালানটির সিএণ্ডএফ এজেন্ট আব্দুল লতিফের মালিকানাধীন রাতুল এন্টারপ্রাইজের। আব্দুল লতিফ হচ্ছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শার্শা উপজেলা শাখার সাবেক সাধারন সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামানের শ্যালক। আব্দুল লতিফ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আলহাজ নুরুজ্জামানের শ্যালক হওয়ার সুবাদে এবং তার ক্ষমতার প্রভাবে শুধু বেনাপোল সিএণ্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতা বনে যাননি। সাথে সাথে সাতক্ষীরা থেকে খালি হাতে বেনাপোল এসে আব্দুল লতিফ টাকার কুমির বনে গেছেন। বেনাপোল শহরে তিনি গড়ে তুলেছেন ৪ তলা এবং ৬ তলা দুটি আলিশান অফিসসহ বাড়ি। যা নিয়ে বেনাপোল বন্দর জুড়ে নানান সব প্রচার প্রচারণা রয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে বা আলহাজ নুরুজ্জামান বেচেঁ না থকেলেও আব্দুল লতিফের দাপট কমেনি। বিএনপি ঘরাণার কিছু নেতাকে ম্যানেজ করে লতিফ গং তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৫/০৯/২০২৫ ইং তারিখে ভারত থেকে ট্রাকটি বেনাপোল স্থল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল ইয়ার্ডে প্রবেশ করার পর তার নাম প্রকাশ হলেও তিনি ছিলেন ড্যাম কেয়ার ভাবে। তাহলে কি ওই ট্রাক নিয়ে সন্দেহ ছিল ট্রাকটি কাগজপত্র বিহীন অথবা অবৈধ পণ্য ছিল। যা রাতুলের নামে পাঠানো হয়েছিল? এটা জানাজানি হওয়ার কারণেই কি ট্রাক চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। স্থানীয় আমদানি রফতানি কারক ও সিএণ্ডএফ সদস্যদের যা নিয়ে রয়েছে নানা সন্দেহ। তারা মনে করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কি ভাবে এ পণ্য বাহি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করল। ট্রাক প্রবেশের সময় বিজিবি স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কাগজপত্র দেখে শুনে দেশে প্রবেশ করার অনুমতি দিলেই ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিএণ্ডএফ কর্মচারী বলেন ট্রাকটি ভারতীয় পণ্যে ভরা ছিল। তার কারন ট্রাকের পিছেনে তালা কাটা এবং তা পুনরায় ঝালাই করা দেখা যাচ্ছে। সোমবার ট্রাক খুললে তার মধ্যে হাফ ট্রাক পণ্য পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ সময় স্থল বন্দরে ট্রাকটি আটকে থাকায় যারা পণ্য আমদানি করেছে তারাই তালা কেটে পণ্য বের করে আবার ঝালাই করে রেখেছে। এর সাথে কাস্টমস এবং বন্দরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মাদ আবু হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলেও তারা রিসিভ না করায় প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, আমরাই বিগত পৌনে তিন মাস পুর্বে ট্রাকটি আটক করে কাস্টমসকে অবহিত করি। এখন ওই ভারতীয় ট্রাক ও পণ্য কি আছে তা দেখার বিষয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। উল্লেখ্য ভারত থেকে ট্রাক ট্রাক পণ্য ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যেমে বৈধ পথে চোরাচালানি পণ্য নিয়ে আসে। আর ওই পণ্য সরকার হারায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। আবার কখনো কখনো আমদানি পণ্যর মধ্যে আসে ভারতীয় মদ ফেনসিডিল, ব্লেড ও ঘোষনা বহির্ভুত বিভিন্ন পণ্য। সম্প্রতি বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে বের হওয়ার পর আড়াই কোটি টাকার পণ্য বিজিবির হাতে আটক হয়। আর তার জন্য চাকুরী যায় দুই জন আনছার কমান্ডারের। স্থানীয় ব্যবসায়িরা মনে করে এসব অবৈধ কারবারের সাথে বন্দর কাস্টমস জড়িত না থাকলে ভারত থেকে ট্রাকে করে কাগজপত্র বিহীন পণ্য আনা সম্ভব না। বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, কেন ট্রাকটি কাস্টমস কতৃপক্ষ প্রায় সাড়ে তিন মাস পরে ট্রাকটিতে কি আছে সেটি দেখতে এলেন? পণ্যের প্রকৃত হিসাব কেন দেয়া হচ্ছে না? কত টাকার মাল ছিল সেটি কেন লুকানো হচ্ছে? কাদের সহযোগিতায় তালা কেটে ট্রাকের অর্ধেক পণ্য বের করে নেয়ার পর ট্রাকটি খোলা হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে ক্ষুব্ধ বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা। অবশেষে ঢাকায় বেনাপোলের আলোচিত সিএণ্ডএফ এজেন্ট রাতুল এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল লতিফ ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাকে রিম্যাণ্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই পণ্য চালানসহ অসংখ্য নো-এট্রি পণ্য চালানের হদীস মিলবে। আর এই চক্রের সাথে কারা জড়িত সেটিও জানা যাবে।

