প্রতিদিনের ডেস্ক
দীর্ঘ ১৯ বছর পর রবিবার (১১ জানুয়ারি) পিতৃভূমি বগুড়ায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর এটি ঢাকার বাইরে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সফর। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে বগুড়ায় বইছে উৎসবের আমেজ। জেলাজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও সাজসাজ রব পড়েছে। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে বগুড়া শহরে চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। দলীয় নেতাকর্মীসহ বগুড়াবাসী তাঁকে বরণ করতে মুখিয়ে আছেন। শহরের ছোট-বড় সকল সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নির্বাহী সদস্য, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও ফোরষ্টার হোটেল নাজ গার্ডেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা শোকরানা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বিএনপির মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল রবিবার (১১ জানুয়ারি) বগুড়ায় আসবেন। তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো বগুড়ায় ফোরষ্টার হোটেল বানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁদের পরামর্শে বানানো বগুড়ার ফোরষ্টার হোটেল নাজ গার্ডেনে ১২৫ জন সফর সঙ্গী নিয়ে রাতযাপন করবেন তারেক রহমান। তিনি আরো জানান, ২০০৫ সালের ১৬ আগস্ট বিকেলে তিনি এই হোটেলটি উদ্বোধন করেছিলেন। এদিকে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, আগামী সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠ ও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণ-দোয়ায় অংশ নিবেন। এরপর তিনি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ায় বাপ-দাদার ভিটা ও নির্বাচনী এলাকায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়ায় তার আগমনের খবরে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত দলের নেতাকর্মীরা। তাকে বরণ করে নিতে অপেক্ষায় বগুড়াবাসী। নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে বগুড়া শহরের নবাববাড়ী দলীয় কার্যালয়। সেখানে তারেক রহমানের জন্য একটি কক্ষ সংস্কার করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ নেতাকর্মীরা কাজের তদারকি করছেন। তারা জানান, আগে থেকেই তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত একটি কক্ষ ছিল। পার্টি অফিসে এলেই তিনি ওই কক্ষে বসতেন। দীর্ঘদিন ধরে কক্ষটি জরাজীর্ণ ছিল। কক্ষটি আধুনিকায়ন করার কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া পরিষ্কার করা হচ্ছে তার সম্ভাব্য অবস্থানস্থল। গণদোয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পৈতৃক জেলা বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলা সফর করবেন। সড়কপথে আগামী রবিবার থেকে শুরু হওয়া চার দিনের এই সফর শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি। সফরকালে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘন না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে বিএনপি। এই সফর মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশ।
এদিকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হারিয়ে নেতাকর্মীরা এখনো শোকে মুহ্যমান। দীর্ঘদিন পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই সফর ঘিরে তারা নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। সফর ঘিরে বগুড়া জেলায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। চার দিনের সফরের শেষ দিনে অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি তিনি গাবতলীর বাগবাড়ীতে অবস্থিত তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটায় আসবেন। তাঁর এই সফরকে সামনে রেখে আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক ও গাবতলীর কৃতি সন্তান আতিকুর রহমান রুমন এর নির্দেশে জিয়াবাড়ীতে চলছে ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। মূলফটক থেকে শুরু করে পুরো আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। লাগানো হচ্ছে হরেক রকমের ফুলের চারা। জিয়াবাড়ীর এই কর্মযজ্ঞ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন বাগবাড়ীতে।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নেবেন। দেশনেত্রীর প্রয়াণে আমরা শোকাহত। কিন্তু তারেক রহমানের ফিরে আসা আমাদের নতুন শক্তি দিচ্ছে। তিনি ধ্বংসের কিনারা থেকে দেশকে তুলে আবারও উন্নয়নের জোয়ার আনবেন। তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে শুধু বিএনপি নয়। এর অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বগুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতার সরাসরি উপস্থিতি দেখতে এদিন কয়েক লাখ মানুষের জমায়েত হবে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রবিবার (১১ জানুয়ারি) বগুড়ায় পৌঁছে হোটেল নাজ গার্ডেনে রাতযাপন করবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণ-দোয়ায় অংশ নিবেন। বগুড়ার মানুষ তাঁদের প্রিয় সন্তানকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ঘরের ছেলেকে স্বাগত জানাতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সফর নয়। বগুড়াবাসীর জন্য এটি এক আবেগঘন মুহূর্ত।
এদিকে তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন ও কর্মসূচি ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

