৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

উত্তপ্ত টেকনাফ সীমান্ত, আটক ৫৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী

প্রতিদিনের ডেস্ক:
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে আরাকান আর্মির ব্যাপক গুলাগুলিতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসময় পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ৫৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে জনগণের সহায়তায় আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তাদের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। এদের অনেকে গুলিবিদ্ধ।মিয়ানমার-টেকনাফ সীমান্তে রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।গুলিবিদ্ধ শিশু আফনান (৮) চমেক হাসপাতালে মারা গেছে। সে ওই গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।এদিকে স্থানীয় শিশু নিহতের খবরে বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করে। পরে জেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামী আমিনুর আহমদ আনোয়ারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতাকে শান্ত করতে সহায়তা করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে।এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, ওপারের গুলিতে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুলিতে আহত হয়েছেন আরও একজন, তবে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। খবর শুনে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টারশেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। তিন দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী।সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও থেমে থেমে গুলিবর্ষণ চলছে। অন্যদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীও আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা ও বোমা হামলা চালাচ্ছে। হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ করেন।উখিয়া-৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি এবং গোলাগুলির বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।স্থানীয় রমজান উদ্দিন বলেন, আজ সকালে হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় বেড়িবাঁধে গেলে তিনি বেশ কিছু গুলি দেখতে পান। তখন ওপারে গোলাগুলি হচ্ছিল। এ সময় একটি গুলি এসে পড়ে তাঁর পায়ের কাছে মাটিতে।টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে সতর্ক করা হচ্ছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়