৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে ধানের শীষের প্রার্থী সাবিরার চেয়ে দাঁড়িপাল্লার ফরিদের সোনার গহনা বেশি

এম এ রহিম, চৌগাছা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে প্রধান দুই প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী বিএনপি মনোনীত নারী প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সোনার গহনা রয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকার। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের গহনার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬২ লাখ টাকা। স্ত্রীর কোনো গহনার তথ্য নেই। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা (৪৯) হলফনামায় নিজেকে গৃহিণী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন এবং তিনটি মামলা বিচারাধীন, চলমান বা রিভিউ পর্যায়ে রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, সাবিরা সুলতানার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় দুই লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় দুই লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৫ টাকা। তার হাতে নগদ রয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৬৫ লাখ টাকার বেশি। তিনি ৩০ তোলা ওজনের সোনার গহনার মালিক হলেও এর মূল্য মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। সম্পদ অর্জনের সময় তার মোট সম্পদের মূল্য ছিল এক কোটি ৬১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকায়। জমি-জায়গার হিসাবে তার নামে রয়েছে ৩৭১ শতক কৃষি জমি ও ৩০৭ শতক অকৃষি জমি, যার মোট মূল্য ৮৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে এক হাজার ৭৭৭ বর্গফুট ও এক হাজার ৩১৫ বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট এবং একটি বাড়ি। এসব স্থাপনার অর্জনকালীন মূল্য ছিল এক কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (৬৪) পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তার স্ত্রী পেশায় শিক্ষক। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত রয়েছে ৯৫ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সঞ্চয়। এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে ৬২ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ছয় লাখ টাকা দামের একটি আগ্নেয়াস্ত্র। বিদেশে এই দম্পতির বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, বিদেশে মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নামে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য তিন কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তি। প্রার্থীর নিজ নামে থাকা এসব সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য ছিল এক কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ৯৯ লাখ টাকায়। তার স্ত্রীর মোট সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৮ লাখ টাকা। দেশে তার নামে রয়েছে ৬০ শতক অকৃষি জমি এবং ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট। এছাড়া বিদেশে তার মোট স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত তথ্য হলো, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নামে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথরে তৈরি গহনার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬২ লাখ টাকা। তবে তার স্ত্রীর নামে কোনো গহনা নেই—এমন তথ্যই হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়