২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সুন্দরবনে হরিণ নিধন কোনোভাবেই থামছে না

খুলনা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে হরিণ নিধন যেন কোনোভাবেই থামছে না। একের পর এক অভিযানে মাংস ও ফাঁদ উদ্ধার হলেও শিকারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনের কাগাদোবেকি এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস ও ফাঁদ উদ্ধার হওয়ায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—কারা এই অপরাধের নেপথ্যে? সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের ঘোলের খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড একশ কেজি হরিণের মাংস এবং চার হাজার মিটার শিকারের ফাঁদ জব্দ করে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুনতাসীর ইবনে মহসিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কাগাদোবেকির একটি টহল দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় শিকারিরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা হরিণের মাংস ও শিকারের ফাঁদ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাগাদোবেকি ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই উদ্ধার অভিযান নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন,“এত মাংস আর ফাঁদ সুন্দরবনের ভেতরে ঢোকে কীভাবে? বনবিভাগের কিছু লোক যদি না জানে, তাহলে এটা সম্ভব?” আরেক স্থানীয় বাসিন্দা, নিজেকে ‘সবুজপ্রেমী’ পরিচয় দিয়ে বলেন, “শুধু ফাঁদ আর মাংস জব্দ করলেই হবে না। যারা শিকার করছে, তাদের ধরতে হবে। কিন্তু বারবারই দেখা যায় শিকারিরা পালিয়ে যায়।” সুন্দরবন রক্ষায় কাজ করেন—এমন একজন ব্যক্তি জানান ‘নদীর মানুষ’ ব্যবহার করে বলেন, “বনের ভেতরে শিকার এত সহজে হলে বোঝাই যায়, ভেতরের কেউ না কেউ তথ্য দিচ্ছে। বনকর্মী আর কিছু বনবিভাগীয় কর্মচারীর যোগসাজস ছাড়া এটা সম্ভব নয়।” আরেকজন পরিবেশকর্মী, ছদ্মনাম ‘বনবাতাস’, অভিযোগ করেন, “হরিণ শিকার এখন আর গোপন কিছু নয়। ফাঁদ পাতা থেকে শুরু করে মাংস বের করা—সবই যেন একটি চক্রের মাধ্যমে চলছে। কিন্তু বড় রাঘববোয়ালরা থেকে যাচ্ছে আড়ালে।” স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, শুধু অভিযানে উদ্ধার নয়—বরং বনবিভাগের ভেতরে দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার বিষয়টি খতিয়ে না দেখলে সুন্দরবনের হরিণ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। একদিকে কোস্ট গার্ডের অভিযান, অন্যদিকে বারবার শিকারিদের পালিয়ে যাওয়া—এই বাস্তবতায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়