৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ভবদহে দেড়হাজার বিঘার ঘেরের পাড় ভেঙ্গে বোরোর ক্ষেত ধান পানির তলে

মিঠুন দত্ত, অভয়নগর
যশোর-খুলনার দুঃখ হিসেবে খ্যাত ভবদহ অঞ্চলে বিল কেদারিয়ায় একটি মাছের ঘেরের পাড় ভেঙ্গে ঘেরের মধ্যে রোপণ করা দুইশত বিঘা বোরোধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বোরো আবাদের জন্য প্রস্তÍত করা বাকি এক হাজার ৩০০ বিঘা জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ওই বিলের প্রায় চারশত কৃষক। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় দেড় কোটি টাকা। জানা গেছে, বুধবার ভোর চারটার দিকে বিল কেদারিয়ায় সুজাতপুর মৌজায় সীমানা খাল সংলগ্ন শ্যামল সিংহের মাছের ঘেরের দক্ষিণ পাশে পাড়ের প্রায় ছয় ফুট হঠাৎ ভেঙ্গে খাল থেকে ওই ঘেরে পানি ঢুকতে থাকে। আস্তে আস্তে ঘেরের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ বড় হতে থাকে। ঘেরের লোকজন বালির বস্তা ও মাটি দিয়ে ভাঙা অংশ আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিকাল সাড়ে পাচঁটা পর্যন্ত জানা গেছে ভাঙা অংশ ৪০ থেকে ৪৫ ফুট চওড়া এবং ২০ ফুট গভীর হয়েছে। পানি এখনও ঘেরে প্রবেশ করছে।
জানা গেছে, বিল কেদারিয়ায় পল্লী মঙ্গল ধান্য ও মৎস ঘেরে সাতটি গ্রামের চারশত কৃষকের একহাজার ৪৭০ বিঘা(৩৩ শতকে বিঘা) জমি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বোরো আবাদ করার লক্ষ্যে গত দুই মাস ধরে মালিক শ্যালো মেশিন দিয়ে ঘেরের পানি সেচে খাল দিয়ে বের করে দিচ্ছেন। এতে ওই ঘেরের অধিকাংশ জমিতে বোরো আবাদ করার উপযোগী হয়েছে। কৃষকেরা প্রায় দইশত বিঘা জমিতে ইতিমধ্যে ধানের চারা রোপন করেছে। বাকী জমির অধিকাংশ রোপনের জন্য কৃষকেরা প্রস্তÍত করেছে। ঘেরের নিচু অংশে এখনও সেচ অব্যাহত আছে। সেখানে অনেক মাছ রয়েছে বলে জানা গেছে। অনেক মাছ বেরিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ঘেরে কৃষক অনিল বিশ্বাসের ১৮ বিঘা জমি রয়েছে। তার দুই তৃতীয়াংশ জমি চাষাবাদের জন্য প্রস্তÍত করা হয়েছে। দুইবিঘা জমিতে কয়েকদিন আগে তিনি চারা রোপন করেছেন। বেশ কয়েকবছর জমিতে ফসল না হওয়ায় তিনি দিশেহারা। তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতায় কয়েকবছর জমিতে ফসল হয়না। এবার মালিক সেচ দিয়ে ফসল করার উপযোগী করে দেওয়ায় আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। হঠাৎ পাড় ভেঙে ঘের তলিয়ে আমাদের সকল আশা শেষ হয়ে গেল। ঘেরের মালিক শ্যামল সিংহের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ঘেরের পার্টনার মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, ঘেরে সেচ দেওয়ার সময় পাড় ভেঙে পাশের ঘেরের পানি এসে আমাদেও ঘেরের ভিতর ঢুকে যায়। এতে ২০ লক্ষ টাকার মাছসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ভেঙে যাওয়া অংশ বেধে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়