১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

‘এই পেশায় চেহারা থেকে হাঁটার ভঙ্গি—সবকিছু নিয়েই মন্তব্য আসে’

প্রতিদিনের ডেস্ক
এত দিন দর্শক তাকে দেখেছেন গভীর, সংযত আর গুরুগম্ভীর চরিত্রে। কিন্তু সেই পরিচিত ছক এবার ভাঙলেন মালবিকা মোহানন। নতুন ছবি ‘দ্য রাজাসাব’–এ তিনি হাজির হয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে। হরর-কমেডি ঘরানার এই বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁর চরিত্র, অভিনয়ের ধরন, সবকিছুই আগের চেনা মালবিকার থেকে আলাদা। মারুতি পরিচালিত ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও, মালবিকার সাবলীল অভিনয় ও শক্তিশালী পর্দা–উপস্থিতি দর্শকের নজর এড়ায়নি। সম্প্রতি ছবিটি ঘিরে নিজের অভিজ্ঞতা, চরিত্রের চ্যালেঞ্জ এবং ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

 বাণিজ্যিক ছবিটির প্রস্তাব পাওয়াটা মালবিকার কাছে ছিল বিশেষ মুহূর্ত। তাঁর কথায়, ‘অনেক দিন ধরেই প্রভাসের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। তাই প্রস্তাবটা আসতেই আগ্রহ তৈরি হয়।’ শুধু প্রভাস নয়, চরিত্রটিও তাকে টেনেছিল। ভৈরবী নামের এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ নিয়ে মালবিকা বলেন, ‘এই চরিত্রে করার মতো অনেক কিছু ছিল। বড় তারকার ছবিতে অনেক সময় নারী চরিত্র অ্যাকশন বা আলাদা করে কিছু করার সুযোগ পায় না। এখানে আমি নিজেই অ্যাকশন করেছি, এটা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’ বড় পর্দার দর্শকের কথা মাথায় রেখে অভিনয়ের ধরনেও আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। ‘আমি জানতাম, এটা পুরোপুরি বাণিজ্যিক ছবি। তাই কোথাও ধীর, কোথাও জমাট—এই ভারসাম্যটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।’ অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য প্রায় ১০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল মালবিকাকে।

 লাফ দেওয়া, দড়ি ব্যবহার করে আঘাত করা—এমন জটিল স্টান্টের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া ছিল জরুরি। প্রভাসের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বাস লুকাননি অভিনেত্রী। তাঁর মতে, ‘এই ছবিতে প্রভাসকে দর্শক একেবারে অন্যভাবে দেখবেন। আমরা সাধারণত তাকে গম্ভীর চরিত্রে দেখি, কিন্তু এখানে সে হাস্যরস করেছে—এটা খুব উপভোগ্য।’ বিভিন্ন ভাষা ও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিজের অভিনয়যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন মালবিকা। ‘মালয়ালম ছবিতে মোহনলালের সঙ্গে কাজ করা যেমন স্বপ্নপূরণ, তেমনি প্রভাসের সঙ্গে কাজ একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা। এখন ভাষার সীমারেখা অনেকটাই মুছে গেছে। ভালো ছবি হলে দর্শক নিজেরাই খুঁজে নেন।’—বললেন অভিনেত্রী। শোবিজে সমালোচনা আর চাপ সামলানোও যে সহজ নয়, তা অকপটে স্বীকার করেন তিনি।

মালবিকার ভাষ্যে, ‘এই পেশায় চেহারা থেকে হাঁটার ভঙ্গি—সবকিছু নিয়েই মন্তব্য আসে। শুরুতে খুব কঠিন ছিল।’ তবে এখন তিনি জানেন, কোন মতামত গুরুত্ব দেওয়া দরকার আর কোনটা উপেক্ষা করতে হয়। তাঁর কথায়, ‘কাজের বাইরে আমার নিজের ছোট একটা জগৎ আছে—পরিবার আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’ ভ্রমণ আর আলোকচিত্রচর্চা, বিশেষ করে বন্য প্রাণীর ছবি তোলা, তাকে মানসিকভাবে সতেজ রাখে বলে জানান মালবিকা। ফিটনেস নিয়েও তিনি স্পষ্ট—ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বাঁধতে চান না তিনি। এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তাঁর মা। সবশেষে ‘দ্য রাজাসাব’ ও নিজের চরিত্র নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মালবিকা বলেন, ‘এটা পুরোপুরি দর্শকনির্ভর ছবি। ভৈরবী শক্ত, কিন্তু মাটির সঙ্গে মিশে থাকা একজন নারী।’ চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিলও খুঁজে পান তিনি। বললেন, ‘সে ভালোবাসার মানুষের জন্য লড়াই করে, আবার নিজের আবেগ প্রকাশ করতেও জানে। আশা করি দর্শক ছবিটা উপভোগ করছেন।’

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়