১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে

রাজনৈতিক দলগুলোর পালটাপালটি অভিযোগে চাপের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খবরে প্রকাশ-পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক মাঝামাঝি রাখা, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের প্রার্থিতা বহাল বা বাতিল করা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়া, পক্ষপাতমূলক আচরণ, জাতীয় সংসদের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ করা এবং পরবর্তী সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অনুমতি দেওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতায় এ চাপ তৈরি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এসব ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ইসিতে গিয়ে কয়েকদিন ধরে পালটাপালটি অভিযোগ করে আসছে। এ দলগুলো ইসির নিরপেক্ষ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি একই ইস্যুতে দুদিন ধরে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অবশ্য একজন নির্বাচন কমিশনার এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগে কমিশন চাপে নেই। বরং সবাই ইসিতে এসে নিজেদের অভিযোগ ও পরামর্শ জানানোয় কমিশন সমৃদ্ধ হচ্ছে বলে দাবি তার। ইসি বড় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে ওই নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে।বলাবাহুল্য, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জন্য শুধু আইনি দায়িত্ব নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা। আমরা দেখছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পালটাপালটি অভিযোগ ও আন্দোলনের মুখে ইসি যেমন চাপের সম্মুখীন হয়েছে, তেমনি নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা, পোস্টাল ব্যালটের নকশা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মতো দলগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই ইসিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মনে রাখা দরকার, নির্বাচন মানেই একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, যেখানে মতভিন্নতা ও অভিযোগ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যখন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে উদ্দেশ্য করে তোলা হয়, তখন তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বৈকি। অবশ্য এই প্রতিকূলতার মধ্যেও আশার আলো দেখছেন নির্বাচন কমিশনাররা; কিন্তু শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা তো আছেই, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ঋণখেলাপির মতো স্পর্শকাতর আইনি বিষয়েও কমিশনের কঠোরভাবে আইন অনুসরণের বিকল্প নেই। এবং তা এ কারণে যে, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের সামান্যতম ছাপও নির্বাচনের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন তার ওপর অর্পিত এই মহান দায়িত্ব পালনে যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফলভাবে এ বৈতরণী পার হবে। তবে এই সাফল্যের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কোনো বিকল্প নেই। কারণ, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই শুধু গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে টেকসই করা সম্ভব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কমিশন শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবে-এটাই প্রত্যাশা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়