সৈকত হোসেন
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ধানের শীষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের ওলিগলি থেকে শুরু করে গ্রাম,পাড়ামহল্লা সবখানে অমিতের ধানের শীষের রব উঠেছে। তরুণ যুবক আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলেই উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনতে এবং শান্তি সম্প্রীতিময় নতুন যশোর গড়তে ধানের শীষের প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ভোটররা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে পিতা প্রয়াত তরিকুল ইসলামের মতো উন্নয়নে ধারা রক্ষা এবং শান্তি সম্প্রীতিময় বৈষম্যহীন সমাজ চাইলেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও নির্বাচিত হলে ভোটারদের প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস দিলেন। সকলকে সাথে নিয়ে নতুন ভাবে যশোরকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। পিতা তরিকুল ইসলামকে আপনারা(ভোটাররা) চারবার ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন সুযোগ দিয়ে উন্নয়নের সুযোগ দিয়েছেন। আমাকে সেই সুযোগ দিলে পিতার উন্নয়নের ধারা বাহিকতা ফিরিয়ে আনবো। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রচারণার প্রথম দিনে সদর উপজেলার আরবপুর ইউয়িনে দিনব্যাপী প্রচার-প্রচারণা চালান। এসময় তিনি ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পথসভায় বক্তব্য দেন। এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এই যশোরে আগামী দিনে এমন একটি ফুলের বাগান হিসেবে গড়ে তুলবো যে বাগানে সকল প্রকার ফুল ফুটবে। এখানে ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক কোন বিশ^াসের ভিন্নতার কারণে কারও মধ্যে বিভেধ বিভাজন থাকবে না। ধণী-গরীব কিংবা বর্ণ বৈষম্য থাকবে না। এই যশোর হবে, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক সম্প্রীতির তীর্থ ভূমি। কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ঠাঁই এই যশোরের হবে না। যে যদি আমার সন্তান কিংবা দলের কোন কর্মীর যদি জনগণের প্রতিপক্ষে হওয়ার চেষ্টা করে তার জায়গা এই যশোরের আলো বাতাসে হবে না, তার ঠিকানা হবে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে। যশোরের হারানোর ধর্মীয় রাজনৈতিক সৌহার্দ্য সহবাস্থান ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রাজনীতি মানে কেবল মিছিল মিটিং স্লোগান কিংবা নির্বাচন নয়। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাও রাজনীতির অংশ। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি। তাদের যেমন তাদের সকল দুঃখ, কষ্টে পাশে ছিলাম আগামীতে থাকবো।
সুজলপুর দাস পাড়ায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী পথ সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। আমরা প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম আপনাদের ভোটে বিগত দিনে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে এই যশোরের কবর স্থানের যেমন উন্নয়ন করেছেন, ঠিক একই ভাবে শ^শানের উন্নয়ন করেছেন। একই ভাবে মসজিদের যেমন উন্নয়ন করেছেন, ঠিক তেমনই মন্দিও কিংবা গির্জার উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি কখনো বৈষম্য করেননি। আমিও তার সন্তান হিসেবে আপনাদের কথা দিচ্ছি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে কবর স্থান, শ^শান, মসজিদ, মন্দির কিংবা গির্জার উন্নয়নে ক্ষেত্রে কোন বৈষম্য থাকবে না। কে হিন্দু কে মুসুলিম এটি আমার এবং আমার দলের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। আমার সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। আরবপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ চলা কালে তিনি মুক্তিশ^রী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তরুন প্রজন্মেও নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। এসময় তিনি তরুণদের স্বপ্ন দেখান। তিনি বলেন, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে, চাকরি পাওয়ার জন্য দল করা লাগবে না। কোন একটি টাকা ঘুষ কিংবা এক চা খাওয়ানো লাগবে না। মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সকলের চাকরি পাবে আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। দেশকে নতুন ভাবে গড়তে এবং দেশের চিত্র পাল্টাতে তরুণদের সুস্থ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বিগত দিনে তরুণদেরকে মাদক এবং অস্ত্র দিয়ে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছিল। আমরা তরুণ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। স্কুলকে আগামী প্রজন্মকে কি ভাবে গড়ে তোলা যায়, সেই পরিকল্পনা যেমন আমাদের রয়েছে। ঠিক তেমনকি শিক্ষিত তরুণ বেকার যুবকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমূখি করে গড়ে তুলতে চাই। তরুণদের মতো ব্যবসায়ীদের শঙ্কামুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পুুলেরহাট বাজারে ব্যবসায়িকদের সাথে অনুষ্ঠিত অপর একটি মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিগত সরকার আপনাদের পাশে ছিল না। একটি অনিরাপদ পরিবেশের মধ্য দিয়ে আপনার ব্যবসা করেছেন। কিন্তু আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি আপনাদের স্বার্থ কোন ভাবে ক্ষুন্ন হবে না। বিশেষ কোন ব্যক্তি , গোষ্ঠী কিংবা কোন সন্ত্রাসী আপনাদের প্রভাবিত করতে পারবে না। সব সময় অনুকূল পরিবেশে আপনারা যাতে ব্যবসা করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করবো। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পাকদিয়া মন্ডপপাড়া গেলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উলুধ ধ্বনী ও ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করে নেন। তার গণসংযোগের পুরসময় জুড়ে ভোটররা ফুল ছিটিয়ে, ধানের শীষে তোড়া তুলে দিয়ে বরণ করেন। তারা আবেগ আপ্লুত হয়ে অমিতকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ধর্মতলা কদলতলা মোড়ে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা গণসংযোগ শুরু হয়। এরপর ভেকুটিয়া বকুলতলা বাজার, ভেকুটিয়া কলোনী বাজার, বাশবাড়িয়া বাজার মোড়, বালিয়া ভেকুটিয়া শ্বশানপাড়া, শহীদ মোড়, বালিয়া ভেকুটিয়া বাজার, চাঁদপুর,পতেঙ্গালী আমতলা বাজার, রঘুরামপুর, নিমতলা দূর্গাপুর, ধোপাখোলা, মালঞ্চী বাজার, মন্ডলগাতী, খোলাডাঙা গাজীর বাজার এলাকায় নির্বাচনী পথ সভায় বক্তব্য রাখেন এবং ভোটারদের সাথে গণসংযোগ করেন। পথসভায় বক্তব্য রাখেন এবং গণসংযোগে অংশ নেন, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আবু সাইদ, সদর উপজেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, আরবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যান ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব নির্মল কুমার বিট, সুজলপুর পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি শিপন কুমার দাস, সনাতন ধমীয় নেতা আশোক কুমার দাসপমুখ।

