ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি তিন সপ্তাহেরও কম সময়। বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম। সিলেটে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সেখানে দল মনোনীত ও জোট সমর্থিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। ঢাকার মিরপুরে নিজ নির্বাচনী আসনে (ঢাকা-১৫) নির্বাচনী জনসভা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার অন্যান্য দলও নানাভাবে তাদের প্রচারণা শুরু করে। এর আগে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা ছুটে গেছেন নিজ নিজ আসনে কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে। ফলে সারা দেশেই জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। কিছু এলাকা থেকে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, নিবন্ধিত মোট ৬০টি দলের মধ্যে এবার ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৮টি আসনের মধ্যে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ আসনে, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ২২৪ আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী ২৫৩ আসনে, জাতীয় পার্টির লাঙলের প্রার্থী ১৯২ আসনে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাস্তের প্রার্থী ৬৫ আসনে, এনসিপির শাপলাকলির প্রার্থী ৩২ আসনে, এবং গণ অধিকার পরিষদের ট্রাকের প্রার্থী রয়েছেন ৯০ আসনে। এ ছাড়া এলডিপি ১২, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১০, গণতন্ত্রী পার্টি এক, জাসদ ছয়, জেএসডি ২৬, জাকের পার্টি সাত, বাসদ ৩৯, বিজেপি পাঁচ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১৩, এনপিপি ২৩, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চার, গণফোরাম ১৯, গণফ্রন্ট পাঁচ, বাংলাদেশ ন্যাপ এক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি তিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯, কল্যাণ পার্টি দুই, ইসলামী ঐক্যজোট দুই, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬, জাগপা এক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাত, খেলাফত মজলিস ২১, বিএমএল ছয়, মুক্তিজোট ২০, বিএনএফ আট, এনডিএম আট, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২, বাংলাদেশ জাসদ ১১, বিএসপি ১৯, এবি পার্টি ৩০, নাগরিক ঐক্য ১১, গণসংহতি আন্দোলন ১৭, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি দুই, বিএমজেপি আট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৫, বিআরপি ১২, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ২৯, জনতার দল ১৯, আমজনতার দল ১৫, বাংলাদেশ সম-অধিকার পার্টি এক এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী তিন আসনে লড়াই করছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন মোট ২৪৯ আসনে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট সামনে রেখে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা সামনের দিনগুলোতে কার্যকর করা গেলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব। আমরাও আশা করি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর এবং সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় ও নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হবে

