১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

প্রস্তাবিত পে স্কেলে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে মূল বেতন আট হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার এবং প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে এসব সুপারিশ রেখে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হবে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সংস্কারের নামে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত কিছু কাজ করা ছাড়া আর কিছুই করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।তিনি বলেন, বেতন বাড়ানো বা এই ধরনের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ইকোনমিক গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টিকরাপশন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমলারা দিন দিন আরো ক্ষমতাশালী হয়ে উঠছেন, অথচ তাঁদের হওয়ার কথা ছিল জনবান্ধব। এই আমলাতান্ত্রিক হয়রানিই দুর্নীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এর আগে আরো অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়াতে পারে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ ও অর্থনীতি প্রস্তুত কি না, তা যাচাই জরুরি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এখনো মজুরি বাড়ানোর মতো সক্ষমতায় পৌঁছায়নি। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি টেকসই হবে না।পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারাও বলছেন, বেতন বাড়ানোর পরপরই দেখা যাবে বাজারে সব পণ্যের দাম দেড়-দুই গুণ বেড়ে গেছে। তাই বেতন বাড়ানোর চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
সরকারকে মনে রাখতে হবে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার অতি নগণ্য একটি অংশ। তাদের খুশি করতে গিয়ে মূল্যস্ফীতিকে বড় মাপে উসকে দেওয়া হলে দেশের বেশির ভাগ মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়ে যাবে। তাই জনকল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়