মিঠুন দত্ত, অভয়নগর
জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৮৮, যশোর- ৪ অভয়নগর-বাঘারপাড়া উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলের সবাই একত্রিত হয়ে কাজ করছেন। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ায় উচ্ছ্বাসপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এলাকায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ধানের শীষের পক্ষে নামার প্রস্ততি নিচ্ছেন সবাই। আর এতে প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত বলে দাবী করছেন কর্মীরা। সরেজমিন অভয়নগর-বাঘারপাড়া উপজেলা ও যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ আসনে দশজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিএনপি এ আসনে দুইজনকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু ঋনখেলাপির দায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বাতিল হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুবের ছেলে ফারহান সাজিদ( স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়াও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আশেক এলাহী জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রসুলকে সমর্থন দিয়ে কর্মী সমর্থকদের তার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী যশোর জেলা আমীর মোঃ গোলাম রসুল, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বায়েজীদ হোসাইন, জাতীয় পার্টি (কাদের) জহুরুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।
জানা গেছে, ইঞ্জিঃ টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ারপর তিনি বেশ মনোক্ষুন্ন ছিলেন। কিন্তু ২৩ জানুয়ারি মতিয়ার রহমান ফারাজীকে মিষ্টিমুখ করিয়ে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এর আগে গত ২১ তারিখ জেলার শীর্ষ নেতারা দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া নেতাদের নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটে ডেকে মিটিং করে বিভেদ ভুলে এক সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যশোর-৪ আসনটি দুই উপজেলা ও একটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। অভয়নগর উপজেলায় রয়েছে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনয়ন, বাঘারপাড়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন ও যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫ শত ২৯। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৪ শত ৫২ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩ জন। এর মধ্যে অভয়নগর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ১২ হাজার ৩৪৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৮ জন। এছাড়া তৃতীয় লীঙ্গের ভোটার রয়েছে দুইজন। বাঘারপাড়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৪। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৯ হাজার ১৭৪ জন এবং নারী ভোটার ৯৯ হাজার ৯৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে একজন। এছাড়া বসুন্দিয়া ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৪০৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৯৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে একজন। এ আসনে ১৪৮ ভোট কেন্দ্রের ৮৬৭ কক্ষে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ৩৯১ পুরুষ কক্ষ ও ৪৭৬ মহিলা কক্ষ। ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব বলেন, সব দ্বিধাদ্বন্ধ ভুলে আমরা সবাই একসাথে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় অবিসম্ভাবী। বিএনপি প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী বলেন, দলের মধ্যে কোনো লবিং গ্রুপিং নেই। আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান। আমি এই আসনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন ও ভালবাসা পেয়েছি। নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ সহায় হলে এবং নেতা কর্মীদের ভালবাসায় আগামী নির্বাচনে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আচরণ বিধি যাতে লঙ্ঘিত না হয় সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হবে।

