সৈয়দ আবু সাঈদ
হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে মুসলমানগণ পালন করে থাকেন। আজকের রাতটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি মহিমান্বিত রাত। মর্যাদাপূর্ণ এই রাতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত। এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন। মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় রাত জেগে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকবেন। অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করবেন। আজ বাড়ি বাড়ি হালুয়া, ফিরনি, রুটিসহ হরেক রকমের উপাদেয় খাবার তৈরি করা হবে। এসব খাবার বিতরণ করা হবে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে। অনেকে রাতভর ইবাদত করে ভোরে কবরস্থানে যাবেন। চিরনিদ্রায় শায়িত আপনজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন।
পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শবে বরাত উপলক্ষে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে প্রধান উপদেষ্টা শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, মহিমান্বিত এই রাতে আমরা ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভ করতে পারি। আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহ তায়ালার অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফেরাত। শবে বরাতের পরদিন অর্থাৎ কাল বুধবার সরকারি ছুটি।

