২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অভয়নগরে জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়কের ভুল আল্ট্রাসনো রিপোর্টে প্রাণ গেল নবজাতকের

অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় খোদ নড়াইল জেলা সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল গফফারের নিজস্ব এ.হামিদ মেমোরিয়াল (প্রাঃ) হাসপাতার এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ভুল আল্ট্রাসনো রিপোর্টে প্রাণ গেল নবজাতকের। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে একটি সন্তান বাস্তবে হয়েছে দুটি সন্তান। চিকিৎসকের ভুলে রিপোর্টের কারণে সানজিদা আক্তার দোলা নামে এক প্রসূতির দুটি সন্তানের একটি নবজাতকের মৃত্যু হয়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ) সকালে সাড়ে ১০টার সময় অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি করা হয়েছে। তখনো পর্যন্ত রোগীর পরিবারের লোক এবং সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা কেউ জানতেন না। তার পেটে দুটি সন্তান রয়েছে। ভুক্তভোগী রোগীর নাম সানজিদা আক্তার দোলা(১৬) মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গা মশিয়াহাটি গ্রামের তাজিমুল ইসলামের স্ত্রী। মেডিকেলের ভাষায় বলা হয়েছে প্রেগনেন্সি আল্ট্রাসনো রিপোর্ট গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বিকাশ, হার্টবিট, সঠিক বয়স , এবং সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট। কিন্তু এমন একটি স্পর্শকাতর রিপোর্টে কোন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে একটি সন্তানের কথা। যে পরীক্ষা করা হয় রোগ নির্ণয়ের জন্য সেটি যদি ভুল হয় সাধারণ রোগীরা যাবে কোথায়? এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনার সহকারী সার্জন মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, সানজিদা আক্তার দোলা নামের যে রোগীটি গত সোমবারে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে, সেই রোগীরাও জানতেন না তাদের যমজ সন্তান হয়েছে। রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার অবস্থা অনেক নাজুক ছিলো। জরায়ু পুরোপুরি খুলে যাওয়ার কারনে প্রসব যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ে তখন নার্সরা সাথে সাথে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। প্রথমে একটি ছেলে সন্তান হয়। বাচ্চা জন্মের পর পেট থেকে ফুল বের করতে যেয়ে, নার্সরা দেখতে পান পেটে ভিতরে আরেকটি বাচ্চা রয়েছে। বাচ্চাটির অবস্থাও অস্বাভাবিক। পরে অনেক চেষ্টা করে তাকে বের করা হলে। তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ভুল রিপোর্ট এর কারনেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগীর স্বজনেরা যদি আগের থেকেই জানতেন যে তাদের যমজ সন্তান হয়েছ। তাহলে হয়তো বা এমন ঘটনা ঘটত না। নবজাতকের পিতা মোঃ তাজিমুল ইসলাম জানান, দোলার সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় তীব্র ব্যথা ও পানি ভাঙতে শুরু হয়। পরে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে তাকে নারমাল ডেলিভারিত করা হয়। একটি সন্তান জন্মের পরে দেখতে পারে আরেকটি সন্তান রয়েছে পেটের মধ্যে। মাস খানেক আগে নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবদুল গফফারের নিজস্ব এ.হামিদ মেমোরিয়াল (প্রাঃ) হাসপাতার এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনো, ইউরিন ও ব্লাড পরীক্ষা করা হয়। আমি তো রিপোর্ট সম্বন্ধে বুঝিনা, ডাক্তার সাহেব বলেন আমার একটি সন্তান হয়েছে। সুস্থ রয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি ডেলিভারি হবে। আমি ভেবেছিলাম সময় যখন রয়েছে আর কয়েকদিন পরে আবার আল্ট্রাসনো করাবো। কিন্তু সোমবার ব্যথা উঠে গেলে। আর রিপোর্ট করানো হয়নি। সন্তান জন্মের পর জানতে পারি যমজ সন্তান হয়েছিল। ডাক্তার যদি আমাদের সঠিক রিপোর্ট দিতেন। তাহলে হয়তো বা আমার সন্তানের মৃত্যু হতো না। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ আলিমুর রাজিব জানান, যমজ সন্তানের জন্মের বিষয় রোগীর পরিবারের স্বজনেরা কেউ জানতেন না। সন্তান জন্মের পরেই যমজ সন্তানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগ করে নি। লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। নড়াইল জেলা সরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও এ.হামিদ মেমোরিয়াল (প্রাঃ) হাসপাতার এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক ডাঃ আবদুল গফফার জানান, মেডিকেলের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল হতে পারে। একেবারে শত ভাগ সঠিক হবে তা না। ভুল হতেই পারে আমি অস্বীকার করছি। হয়তোবা রোগী দেখার বা রিপোর্ট লেখার ভুল হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে, নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল গফফারের নিজস্ব এ.হামিদ মেমোরিয়াল (প্রাঃ) হাসপাতার এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। নিজে স্বাস্থ্য বিভাগের বড় কর্মকর্তা হওয়ায় সুবাদে নিয়মিত অনিয়ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত বছরের ১২ মে নড়াইল সরকারি হাসপাতালের সামনে আবদুল গফফারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছের নড়াইল এলাকাবাসী। এতোকিছু হবার পরেও অলৌকিক এক শক্তির কারনে প্রতিবারই সব সমাধান করে ফেলেন তত্ত্বাবধায়ক আবদুল গফফার। অভিযোগ রয়েছে, এসকল অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে করেছেন অঢেল সম্পত্তি। এ.হামিদ মেমোরিয়াল (প্রাঃ) হাসপাতার এন্ড ডায়াগনষ্টিক হাসপাতালের অনিয়মের শেষ নেই। এর আগে তার হাসপাতালের নাম ছিলো ডা: ক্লিনিক। নানান অপরাধের কারনে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেন জেলা সিভিল সার্জন। পরে নাম পরিবর্তন করে আবারও অনিয়ম করে চলেছেন নিয়মিত। সচেতন মহলের দাবি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। প্রতিনিয়ত এরা জীবন নিয়ে খেলা করছে। আর এ সকল লোকদের প্রশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিরা। আমরা এ সকল অপকর্ম থেকে পরিত্রাণ চাই।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়