গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির যে চিত্র পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে অন্তত এক হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ে ৪৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও অধিকার সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ১৬২টি নির্বাচনী সহিংসতায় ৯৭০ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে হামলা ও হেনস্তার ঘটনাও বেড়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ১২টি ঘটনায় ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।
বেশির ভাগ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ১৩টি ঘটনায় ১৩ জন প্রার্থীও হেনস্তা বা হামলার শিকার হয়েছেন। এইচআরএসএসের তথ্য মতে, গত ১৭ মাসে দুই হাজার ৬১৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে ৪১৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ২৫১ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। ৪২৭টি ঘটনায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক হামলা, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন নিহত, ৩৭৯ জন আহত এবং ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত এক বছরে কারাগারে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাকি ১০১ জন অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন।সবচেয়ে বেশি ১৪ জন মারা গেছেন গত বছরের নভেম্বরে। আর এই সময়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে ২২৩ জনের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত এক বছরে ১০ জন পুলিশের হাতে, একজন সেনাবাহিনীর হাতে, একজন বিমানবাহিনীর হাতে, একজন র্যাবের হাতে, চারজন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে, একজন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে, দুজন কোস্ট গার্ড এবং ১৩ জন যৌথ বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে নির্যাতন, ১৬ জনকে গুলি করে এবং ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আমরা আশা করি, আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। মানুষ তাদের প্রত্যাশিত সুশাসন ফিরে পাবে।

