সুন্দর সাহা
যশোরের চৌগাছার কৃতি সন্তান ড. নাসিমুল গনি সেলি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদায়ন প্রাপ্ত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনিকে চুক্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তি বাতিল করা হয়। ড. শেখ আব্দুর রশীদ তার অব্যাহতির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করেন বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়। দুই দিনের মাথায় ড. নাসিমুল গনিকে নিয়োগ দেওয়া হলো। নাসিমুল গনি ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিনিয়র সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। তিনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ১৯৮২ ব্যাচকে বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসে অন্যতম মেধাবী ব্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ১৪২ জনের মেধাতালিকায় নাসিমুল গনির অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। নাসিমুল গনি ১৯৮৩ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন। চার বছর রাঙ্গামাটিতে কর্মরত থাকার পর তাঁকে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তিনি একাডেমির উপপরিচালক এবং পরবর্তীতে যুগ্মপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৯১ সালে ভূমি মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে বদলি হন। পরে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তাকে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ, ইরাকে প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক বছর পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফিরে তিনি ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তাকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০১ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং জামালপুর জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের একান্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০০৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৭ সালে তাকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়। ২০০৯ সালে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় জন বিভাগ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সিনিয়র সচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগদান করেন। নাসিমুল গনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। তিনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ১৯৮০ সালে অনার্স এবং ১৯৮১ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রোজানা নাসিমের সঙ্গে বিবাহিত। তাদের পরিবারে এক পুত্র, পুত্রবধূ, এক কন্যা এবং এমির আদেমার গনি নামে এক পৌত্র রয়েছেন। যশোরের চৌগাছার কৃতি সন্তান ড. নাসিমুল গনি সেলি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদায়ন প্রাপ্ত হয়েছেন। ড. নাসিমুল গনি সেলি যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের মরহুম ওসমান গনি এবং মরহুমা হামিদা খানম এর সুযোগ্য ছেলে। তিনি অত্যন্ত সৎ, মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যশোরের চৌগাছার কৃতি সন্তান ড. নাসিমুল গনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদায়ন প্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। দায়িত্ব পেয়ে তিনি দক্ষতার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল দায়িত্ব পাওয়র পর নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একবার সংসদ সদস্য হিসেবে আরেকবার সংস্কারের জন্য। সোমবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ দেশের এক সন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্দে বিশাল দায়িত্ব পড়েছে; আমি তার ভার মেটানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ এবং অতিতে যেভাবে কাজ করেছি, বর্তমানেও একইভাবে কাজ করব; আপনারা সবাই সহায়তা করবেন।’ সচিব বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করছি।

