প্রতিদিনের ডেস্ক:
সৌদি আরব সম্প্রতি সোমালিয়ার সঙ্গে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেছে। একে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সোমালিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ মোআল্লিম ফিকি।যদিও চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করবে এবং একাধিক যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতকে অন্তর্ভুক্ত করবে।ইসরায়েল সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দুই মাস পরেই রিয়াদ-মোগাদিশুর এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরব কেন আগ্রহী?
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের লক্ষ্য মূলত ভূরাজনৈতিক-
সৌদি আরব চাইছে লোহিত সাগর ও আফ্রিকার শৃঙ্গ (হর্ন অব আফ্রিকা) অঞ্চলে তার কৌশলগত উপস্থিতি বাড়াতে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রিয়াদ সক্রিয় হয়েছে।এক আফ্রিকান ইউনিয়ন কূটনীতিকের ভাষায়, ‘সৌদি আরব বুঝেছে, লোহিত সাগরের প্রভাব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
সোমালিয়ার লাভ কী?
সোমালিয়ার জন্য এই চুক্তি কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ—
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার: সোমালিয়া নিজস্ব নৌ ও উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে সৌদির সহায়তা পাবে। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই: আল-শাবাবের মতো জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও আধুনিক সরঞ্জাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বার্তা: ইসরায়েলের সোমালিল্যান্ড স্বীকৃতির পর এই চুক্তিকে কেউ কেউ কৌশলগত ‘চেস মুভ’ হিসেবে দেখছেন।সোমালিয়া অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছে। এর আগে জানুয়ারিতে সোমালিয়া ইউএইর সঙ্গে বন্দর, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত চুক্তি বাতিল করে।
ইসরায়েল প্রসঙ্গ
সোমালিল্যান্ড (সোমালিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি স্বঘোষিত স্বাধীন অঞ্চল) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। ইসরায়েলের স্বীকৃতি ঘোষণা মোগাদিশুর জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।সোমালি প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ বলেছেন, সোমালিল্যান্ডে কোনো ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা হলে তা মোকাবিলা করা হবে।হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে—সুদান, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়ায়—উপসাগরীয় দেশগুলো এখন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে।আমিরাত এরই মধ্যে বহুমূল্য বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে প্রভাব বাড়িয়েছে। সৌদি আরব এখন সেই ভারসাম্য পুনর্গঠন করতে চাইছে।অর্থাৎ সোমালিয়া–সৌদি সামরিক চুক্তি কেবল একটি প্রতিরক্ষা সমঝোতা নয়; এটি লোহিত সাগর, গালফ অব এডেন ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের অংশ। এটি যেমন সোমালিয়ার জন্য সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তার সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি সৌদি আরবের জন্য আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নতুন দরজা খুলছে।

