বিবিধ সংকটে চিড়েচ্যাপ্টা নাগরিক জীবন। এবেলা গ্যাস থাকলে, ওবেলায় নেই। রাস্তায় যানজটে নাকাল অবস্থা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নিত্যদিনের জরুরি পণ্যের অস্বাভাবিক-অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি। আর শুধু নগরজীবনের কথাই বা বলি কেন, গোটা দেশের পরিস্থিতি একই। গ্রামাঞ্চলেও সাধারণ মানুষের জীবন নানা সংকটে জর্জরিত। নতুন সরকারের কাছে এ থেকে পরিত্রাণ চায় আপামর জনসাধারণ।
গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, নতুন সরকার গঠনের পরদিনই অর্থাৎ গত বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বেশ কিছু জরুরি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জানা গেছে, নতুন সরকার প্রথমে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে—নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি। কোনো কিছুতেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পবিত্র রমজানে চিরচেনা সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠেছে।
ছোলা, বেগুন, কাঁচা মরিচ, শসা, ব্রয়লার মুরগিসহ সবকিছুতেই চড়া দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। মূল্যবৃদ্ধির কারণ বললে তাঁরা এক শ একটা অজুহাত শুনিয়ে দেন। ব্যবসায়ীদের দাপটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এমনকি ব্যবসায়ীদের হাতে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা পর্যন্ত নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত বুধবার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে অভিযানে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তারা। এ পরিস্থিতিতে অভিযান মুলতবি করে ফিরে যান সরকারি কর্মকর্তারা। এই যখন পরিস্থিতি, তখন সাধারণ মানুষ দুই চোখে যে অন্ধকার দেখছে, তা দূর হবে কী করে? আমরা আশা করব, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের মানুষ নতুন করে ‘মব সংস্কৃতির’ সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল। ‘মব’ করে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। মাজারে মাজারে হামলা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন পার করেছে। এ থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। একই কারণে নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশাও বেশি। এখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথমেই আইন-শৃঙ্খলার দিকে নজর দিয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা সরকারের এমন সদিচ্ছার প্রতি ভরসা রাখতে চাই।
অতীতে সরকারের কথায় ও কাজে আমরা অসংগতি দেখেছি। সভা-বৈঠকে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেলেও সমাজে তার প্রতিফলন ঘটেনি। নতুন সরকারের কাছে আমরা সেই তিক্ত অতীতের পুনরাবৃত্তি চাই না। এ জন্য সরকারকে আন্তরিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

