১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ঝিনাইদহে এমপির সারপ্রাইজ ভিজিটে চাঁদা আদায় বন্ধ

সোহেল আহমেদ, কালীগঞ্জ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর রোড এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের ওপর চলা দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির রাজত্ব গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। কোনো ধরনের প্রটোকল বা আগাম ঘোষণা ছাড়াই সাধারণ মানুষের বেশে বিভিন্ন পয়েন্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে সাধারণ ভ্যান- রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, ফুটেছে হাসির ঝিলিক। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাওলানা আবু তালিব কালীগঞ্জ রেলগেট, কোটচাঁদপুর রোড রেল স্টেশন এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আকস্মিক অভিযান চালান। তখন দেখা যায় তথাকথিত ইজারা বা সমিতির নামে একশ্রেণির লোক জোরপূর্বক ভ্যান ও রিকশা থেকে টাকা আদায় করছে। সাধারণত জনপ্রতিনিধিরা বড় বহর নিয়ে চললেও মাওলানা আবু তালিব কোনো প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো স্পটগুলোতে উপস্থিত হন। তিনি সরাসরি চাঁদা আদায়কারীদের সামনে গিয়ে আদায়ের বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি রসিদ দেখতে চান। যখনই তারা কোনো বৈধ নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়, তখনই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কালীগঞ্জ রেলগেট এলাকায় এক ভ্যানচালক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “সংসদ সদস্য নিজে এসে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন, এটা কল্পনাও করিনি। প্রতিদিন আয়ের একটা বড় অংশ কোনো কারণ ছাড়াই কেড়ে নেওয়া হতো। তিনি এসে নিজ হাতে তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা শান্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছি।” উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে মাওলানা আবু তালিব বলেন, “কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরের মাটিতে শ্রমিকের ঘাম ঝরানো টাকায় আর কাউকে পকেট ভারী করতে দেওয়া হবে না। রসিদ ছাড়া এক টাকাও আদায় করা যাবে না। আমি নিজে প্রতিটি পয়েন্ট তদারকি করছি। যদি কেউ গোপনে বা জোর করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। গরিবের মুখে হাসি ফুটানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।” এমপির এই শক্ত অবস্থানের পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, কোনো প্রটোকল ছাড়া সরাসরি স্পটে গিয়ে এমন সাহসী পদক্ষেপ ঝিনাইদহের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়