২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

৪ মাস পর ছাড়পত্র পেয়ে ভারতে ঢুকলো সুপারিবাহী ১৭৬ ট্রাক

সৈকত হোসেন
ভারত থেকে মান পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আটকে থাকা রপ্তানিমুখী সুপারিবাহী ১৭৬টি ট্রাক ভারতে গেছে। দীর্ঘ চার মাস এসব ট্রাক বেনাপোল বন্দরে পড়ে ছিল। বর্তমানে যেসব সুপারির ট্রাক আসছে, সেগুলো মান পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েই ভারতে ঢুকছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে এসব ট্রাক ভারতে প্রবেশ করা শুরু করেছে। এরইমধ্যে সব ট্রাক ভারতে ঢুকে গেছে বলে জানা গেছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা কাটতে শুরু করায় আমদানি ও রপ্তানি গতি ফিরতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। প্রতিবছর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি এবং দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে বড় একটি অংশ সুপারি। বাংলাদেশি সুপারির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ভারতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সুপারি ভারতে রপ্তানি হয়। সুপারি রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত থেকে মান পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। তবে গত চার মাস ধরে ভারতীয় কাস্টমস রিপোর্ট সরবরাহ না করায় বেনাপোল বন্দরে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সুপারিবাহী ১৭৬টি ট্রাক আটকা পড়ে। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সমাধান আনতে পারেননি। বরং স্থলপথে পাট, পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টসসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে এসব প্রতিবন্ধকতা কাটবে। অবশেষে নির্বাচনের পর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত শিথিল হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গম ও চিনি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। রোববার সুপারির মান পরীক্ষার ছাড়পত্র দেওয়ায় আটকে থাকা সুপারি রপ্তানি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পণ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ও শর্ত উঠে যাবে বলে মনে করছেন দুই দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা। সুপারিবাহী ট্রাকচালক ফিরোজ আলম জানান, ভারত থেকে মান পরীক্ষার ছাড়পত্র না দেওয়ায় চার মাস ধরে সুপারি নিয়ে ভারতে ঢুকতে পারেননি। এখন সুপারির ট্রাক নিয়ে ভারতে যেতে পারছেন। বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘সুপারি রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। ১৭৬টি ট্রাকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড গুনতে হয়েছে। ভোটের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি, অন্যান্য পণ্যের ওপরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।’ বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আবু তালহা জানান, ভারত ছাড়পত্র দেওয়ায় বেনাপোল বন্দরে আটকে থাকা সব ট্রাক ভারতে প্রবেশ করেছে। নতুন করে যেসব সুপারির ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসছে, সেগুলো মান পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েই ভারতে প্রবেশ করছে। রপ্তানির বিষয়ে কোনো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহল থেকে পাওয়া যায়নি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়