৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নড়াইলে আধিপত্যের জেরে ৫ নিহতের ঘটনায় মামলা হয়নি এখনও : আটক ৬

রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পিতা-পুত্রসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- তারাপুর গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে বনি শিকদার (৩৩), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০), কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০), সদরের তারাপুর গ্রামের রুহুল মোল্যার ছেলে সদয় মোল্যা (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে লাজুক ওরফে সূর্য শিকদার (৩২), সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩০)।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বনি শিকদারকে, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ হালিম ফকিরকে ও সদর থানা পুলিশ তুফান মোল্যা, সদয় মোল্যা, লাজুক ওরফে সূর্য শিকদার, জসিম মোল্যাকে পৃথক অভিযানে আটক করে। আটক ৬ জনকে নড়াইল সদর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যার নেতৃত্বে তারাপুর গ্রাম থেকে শতাধিক লোকজন পার্শ্ববর্তী বড়কুলা গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের সমর্থক খলিল শেখ গংদের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে এলাপাতাড়িভাবে কুপিয়ে রহমান খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ এবং একই গ্রুপের ফেরদৌস শেখ ও মুন্নাকে হত্যা করে। এ সময় খায়েরের লোকজন শটগান দিয়ে গুলি ছুড়ে ও বাড়ীঘর ভাংচুর করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। অন্যদিকে খায়ের গ্রুপের ওসমান শেখের ছেলে ওসিকুর মিয়া গুরুতর আহত হলে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ৩ জনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে আটক ৬ জনকে নড়াইল সদর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. রকিবুল হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান ওরফে খয়ের মোল্যার অনুসারী বড়কুলার বাসিন্দা ওসিকুর ফকিরের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছিল। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা দায়ের করেনি। নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়