১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মশায় অতিষ্ঠ জনজীবন

মশার উপদ্রবে ঢাকাবাসী অতিষ্ঠ। কি দিন, কি রাত—২৪ ঘণ্টাই মশার যন্ত্রণা। অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি সর্বত্রই মশার দাপট। এখনই অবস্থা বেগতিক। সামনে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ভাবতেই যেন গায়ে জ্বর আসছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে মশা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এসব মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। সবচেয়ে বড় কথা হলো—মশা কেন বাড়ছে, তা আমাদের কারো অজানা নয়।আর মশার আধিক্য রাতারাতিও বাড়ে না। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। গবেষকরা এবার মশা বেড়ে যাওয়ার তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে প্রথমত শীতের তীব্রতা কম, দ্বিতীয়ত নর্দমা ও জলাশয় দূষণ যথাযথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি এবং তৃতীয়ত ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনেই দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় তদারকিতে ঢিলেঢালা ভাব। প্রথম কারণটি প্রাকৃতিক হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় কারণ মানবসৃষ্ট অব্যবস্থাপনার ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, উত্তরা ও মিরপুরে মশার ঘনত্ব বেশি। এক দোকানি জানিয়েছেন, ক্রেতারা এসেই মশার উপদ্রবে চলে যান, কিন্তু তাঁকে মশার মধ্যে দোকানেই বসে থাকতে হয়। আরেকজনের ভাষ্য, আগে সন্ধ্যায় মশা বেশি থাকলেও এখন সারা দিনই মশার ভনভন শুনতে হয়। আর এই মাত্রাতিরিক্ত মশা নিয়ন্ত্রণে নগর কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে চিরচেনা অস্ত্র ফগার মেশিন।
সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই সুফল মিলছে না। যদিও নগর কর্তারা দাবি করেছেন, তাঁদের কর্মীরা মশা নিধনে নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু গবেষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের কাঠামোগত জটিলতার কারণেই আজ এই অবস্থা, যা নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার প্রতিফলন মাত্র।
প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু প্রাণহানি হয়। লক্ষাধিক মানুষকে হাসপাতালে যেতে হয়। ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য রোগও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামগঞ্জেও। এর পরও মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো টেকসই, সমন্বিত পদক্ষেপ দেখা যায় না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মশার বিস্তার রোধে অবশ্যই আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সরকারকে বিষয়গুলো আমলে নিতে হবে। গবেষকদের পরামর্শ—সরকার যেন ডেঙ্গু ও আর্বোভাইরাস কৌশলপত্র প্রণয়ন করে, যেখানে পাঁচ থেকে ১০ বছরের সুস্পষ্ট লক্ষ্য, বাজেট ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত থাকবে। আমরা আশা করি, পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন সরকার দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়