সোহেল আহমেদ, কালিগঞ্জ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বারোবাজার বাদুরগাছা আ: জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকি থেকে ৪ বছর বয়সের কন্যা শিশুর হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার সময় বারবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা বাদুড়গাছা আব্দুল জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর অগভীর অব্যবহারিত ভাঙ্গা সেফটি ট্যাংকির মধ্যে মুখ বাধা একটি বস্তা দেখতে পাই। তারা উদ্ধার করে বস্তাটি মুখ বাধা এবং রক্তাক্ত দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মুখ বাধা বস্তাটি খুলে দেখতে পায় ১টি শিশুর হাত-পা বাঁধা এবং শরীর রক্তাক্ত একাধিক নির্যাতনের চিহ্ন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
ঘটনা বিবরনে জানা গেছে বাজেদিহী গ্রামের ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের মেয়ে তাবাসসুম বুধবার বিকালে বাড়ির পাশে খেলতে যায় কিন্তু সন্ধ্যা হলেও বাড়িতে ফিরে না আসলে বাড়ির লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায় না । এ সময় স্থানীয়রা সোশ্যাল মিডিয়ায় ও মাইকে প্রচার করে। পরদিন সকালে নিখোঁজ তাবাসসুমের লাশ পাওয়া যায় আব্দুল জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকিতে। উল্লেখ্য, শিশু তাবাচ্ছুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। নজরুল ইসলাম কালিগঞ্জ বারোবাজার দর্জি কাজ করত এবং তার মা হালিমা খাতুন বারোবাজার স্থানীয় এনজিও ওয়েব ফাউন্ডেশন এর কর্মচারী। চাকুরির সুবাদে তারা মহেশপুর থেকে বারোবাজার এলাকার বাজেদিহি গ্রামে ভাড়ার বাড়িতে থাকতো। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে দ্রুত তিনি তার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে থেকে শিশুটির মরাদেহ উদ্ধার করে এবং মর্গে পাঠান এবং আসামি শনাক্ত সহ গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ সহ সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।

এদিকে, কালীগঞ্জের বারোবাজার বাদুর গাছা আব্দুল জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সেফটি ট্যাংকি থেকে চার বছরের শিশু তাবাসসুমকে হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। সন্দেহভাজন আসামী বাজেডিহি গ্রামের রফিক উদ্দীনের ছেলে আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া পুলিশ গ্রেফতার করে কালিগঞ্জ থানায় সোপর্দ করেছে। গত বুধবার বিকালে বাড়ির পাশে খেলতে যেয়ে সে নিখোঁজ হয়। বাজেডিহি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে তাবাসসুম। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল আটটার সময় বাদুরগাছা আব্দুল জব্বার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকি থেকে শিশুটির বস্তাবন্দী মৃতদেহটি এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরবর্তীতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ শিশুটির মরা দেহ উদ্ধার করে। তার বাড়ি মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামে। শিশুটির বাবা কালিগঞ্জ উপজেলার বারবাজার ইউনিয়নের বাজেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকতেন এবং তার বাবার দর্জির কাজ করত এবং মা স্থানীয় এনজিও ওয়েব ফাউন্ডেশনে চাকরি করতেন।

