২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার শঙ্কা

প্রায় প্রতিবছরই ঈদের আগে কিছু তৈরি পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে ঝামেলা হয়। বিশেষ করে ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।এ বছরও তেমন আলামতই দেখা যাচ্ছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৫০ থেকে ৬০টি কারখানায় অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। আর এর জের ধরে পুরো শিল্পাঞ্চলেই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা নতুন সরকারের জন্য সুখকর হবে না। এই খাতের কারখানাগুলোতে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে।
এর ওপর শুরু হয়ে গেছে বেতন-ভাতা ও ঈদ উপলক্ষে উৎসব বোনাসের দাবিতে কর্মসূচি পালন। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের উদ্যোগে গত শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। আগামী ২০ রমজানের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সব বকেয়া মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত রিপন নিটওয়্যারের শ্রমিকরা নাইট বিল ও বার্ষিক ছুটির পাওনা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বকেয়া মজুরির দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন। সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।’
প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঈদ-পূর্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী মঙ্গলবার ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির (টিসিসি) বৈঠক ডাকা হয়েছে। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ঈদ বোনাস ও মজুরি পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং কিছু কারখানার শ্রমিকরা এরই মধ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
এদিকে ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে সম্ভাব্য আর্থিক চাপ মোকাবেলায় স্বল্প সুদে ঋণ (সফট লোন) ও বকেয়া নগদ প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ বিষয়ে সংগঠনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রণোদনার অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্যালারি সাপোর্টের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে উত্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা না গেলে ঈদের আগে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় আগাম সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ অঞ্চলের (আশুলিয়া) অনেক কারখানার শ্রমিক ঈদের আগে মজুরি ও বোনাস পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।’ আমরা মনে করি, এমন পরিস্থিতিতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে একত্র হয়ে সংকট মোকাবেলায় দ্রুত কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিজিএমইএর সদস্য নয়, এমন কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়