২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মেসিকে বছরে কত টাকা দিতে হয়, জানালেন ইন্টার মিয়ামির মালিক

প্রতিদিনের ডেস্ক:
উজবেকিস্তান ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ ইন্টার মিয়ামির সহ-মালিক হোর্হে মাস জানিয়েছেন, অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে বছরে ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়। এর মধ্যে খেলোয়াড়ের মালিকানা শেয়ারও আছে। মাস একই সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন কেন দলটির স্পনসরশিপ চুক্তি ও অন্যান্য আয়ের পথ বাড়ানো দরকার।
এই সপ্তাহের শুরুতে মিয়ামি ব্রাজিলের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘নু’-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নির্মাণাধীন নতুন স্টেডিয়ামের নাম রাখার অধিকার পাবে এই প্রতিষ্ঠান।‘নু স্টেডিয়াম’ নামের এই মাঠে ২৬ হাজার ৭০০ আসন থাকবে। আগামী ৪ এপ্রিল এখানে প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস বলেন, ‘স্পনসর লাগবে এবং তাদের বিশ্বমানের হতে হবে। কারণ খেলোয়াড়দের দলে রাখাটা ব্যয়বহুল ব্যাপার। মেসিকে আমরা যা দিই তার প্রতিটি পয়সা উসুল হয়। তবে সব মিলিয়ে বছরে ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার দিতে হয়।’
এমএলএস খেলোয়াড় সংগঠনের বেতন তালিকা অনুযায়ী, মেসি পুরো লিগে সবচেয়ে বেশি বেতন পান। তার মূল বেতন ১ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং নিশ্চিত পারিশ্রমিক ২ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৭ ডলার।
ইএসপিএন জানিয়েছে, মেসি অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার চুক্তি এবং লিগের সম্প্রচার অংশীদার অ্যাপলের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি থেকেও আয় করেন।
২০২৩ সালের গ্রীষ্মে মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর গত অক্টোবরে মেসি ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছেন।ইন্টার মিয়ামির ব্যবসায়িক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার আসেনসি জানান, মেসির আসার অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছিল। আসেনসি বলেন, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না। আমার মতে ভাগ্য হলো যখন প্রস্তুতি আর সুযোগ একসাথে মেলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা ঘটে, অথবা আপনি ঘটাতে পারেন, কিন্তু যখন ঘটবে তখনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। লিওনেলের আসাটা এলোমেলো কিছু নয়, এর পেছনে কাজ আছে, কৌশল আছে, পরিকল্পনা আছে। এটা আমেরিকান ধারণা — সেরাটাতে লক্ষ্য করো, সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুত থাকো।’
তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর, সেই প্রভাব সর্বোচ্চ করতে আগে, সময়ে ও পরে সব কিছু করার চেষ্টা করো।’
আসেনসি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘একটি বাস্তব উদাহরণ হলো ২০২১ সালে আমরা যখন মূল জার্সি স্পনসরশিপ চুক্তি করি। আমি একটি শর্ত রেখেছিলাম যে যদি ক্লাব এমন কোনো খেলোয়াড় সই করায় যিনি অন্তত পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, তাহলে স্পনসরশিপ মূল্য দ্বিগুণ হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা চুক্তিতে আছে। এটা ২০২১ সালের চুক্তি। তাই এটা প্রমাণ। ২০২১ সালেই এমন চুক্তি ছিল যা মানসিকভাবে ক্লাব ও কাঠামোকে প্রস্তুত রাখছিল, যদি লিওনেল এখানে আসেন।’
মেসির সঙ্গে ইন্টার মিয়ামির এই চুক্তি ফল দিচ্ছে। স্পোর্টিকোর হিসাব অনুযায়ী, ক্লাবটি এখন এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান দল, মূল্য ১৪৫ কোটি ডলার। এক বছরে ক্লাবের মূল্য বেড়েছে ২২ শতাংশ। আসেনসি বলেন, ‘আমরা কেন বেড়ে উঠছি? কারণ আমরা জিতেছি।’মেসি দলের আর্থিক দিকে কী পরিবর্তন এনেছেন তা বলতে গিয়ে আসেনসি বলেন, পার্থক্যটা ‘রাত আর দিনের মতো, কালো আর সাদার মতো।’ মাঠে মেসির অবদান না থাকলে ক্লাব ভিন্ন অবস্থায় থাকত।
তিনি বলেন, ‘লিও সব কিছুর উন্নতির মূলে আছে। লিওনেলের আগমনের পর থেকে আমরা ইউএস ওপেন কাপ ফাইনালে পৌঁছেছি, লিগস কাপ জিতেছি, সাপোর্টার্স শিল্ড জিতেছি, রেকর্ড পয়েন্ট পেয়েছি, চ্যাম্পিয়নস লিগে উঠেছি, এমএলএস কাপ জিতেছি, আরেকটি লিগস কাপ ফাইনালে পৌঁছেছি, চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে উঠেছি এবং ক্লাব বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছি।’

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়