পরিবর্তিত বাস্তবতায় জনগণ আস্থা রেখেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি। বিশ্বাস স্থাপন করেছিল দলটির দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর। ফলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়েছে দলটি। জনগণের সেই আস্থার কথা ভুলে যায়নি বিএনপি।
তাই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, বৈশ্বিক মন্দাসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ বহুবিধ সংকট ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিএনপি একে একে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবককে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করে গ্রামেই কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ‘কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় তিন বছরে তিন লাখ ৬৬ হাজারের বেশি যুবক-যুব মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে অন্তত এক লাখ ৮৩ হাজার ২৭০ জনকে আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের অধীনে এটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে তিন বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ১০টি মেট্রোপলিটন ইউনিট থানাও অন্তর্ভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৭টি জেলার ৪৪২টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছিল। প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রকল্পে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণকালে প্রতিদিন ১৫০ টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং ৫০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের সময় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ মডিউল সরবরাহ করা হবে এবং অডিও-ভিডিও ভিত্তিক প্রশিক্ষণসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে কোর্সগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিদ্যমান ঋণ কার্যক্রমের আওতায় সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুবকদের জন্য নেওয়া এই প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা এবং বাস্তবে আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে। কেবল প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, প্রশিক্ষণের পর কতজন যুবক উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক ও চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দিতে হবে, যাতে তাঁরা দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারেন
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফসহ সামাজিক সুরক্ষামূলক বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে নতুন সরকার। নতুন এই প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার পাশাপাশি বেকারত্ব হ্রাসে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করি, শত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নেবে।

