প্রতিদিনের ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক ফ্যাশন ডিজাইনার কেটি পেরি ও বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরির দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছেন, ডিজাইনার কেটি পেরি (যিনি বর্তমানে কেটি টেইলর নামে পরিচিত) নিজের নামেই পোশাক বিক্রি চালিয়ে যেতে পারবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী টেইলরের জন্য এটি একটি বিশাল জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে পপ তারকার বিশাল আইনি টিমের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন।
এই আইনি যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০০৯ সালে। কেটি টেইলর যখন তার নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘কেটি পেরি’ চালু করার মাত্র দুই বছর পার করেছেন, ঠিক তখনই বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেতে শুরু করেন গায়িকা কেটি পেরি (যার প্রকৃত নাম ক্যাথরিন এলিজাবেথ হাডসন)। গায়িকার আইনজীবীরা তখন টেইলরকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে তার ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন ও পোশাক বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেন।
টেইলর সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করে জানান, নোটিশটি দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন কারণ তিনি নিজের নাম ব্যবহার ছাড়া কোনো ভুল করেননি।
২০১৯ সালে ডিজাইনার টেইলর গায়িকার বিরুদ্ধে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা করেন। যদিও নিম্ন আদালতে তিনি প্রথমে হেরে গিয়েছিলেন এবং তার ট্রেডমার্ক বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট সেই রায় উল্টে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, নিজের নামে পোশাক ব্র্যান্ড চালানো কোনোভাবেই জালিয়াতি বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা নয়।
দীর্ঘ এই আইনি লড়াই শেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে টেইলর বলেন, এটি কেবল তার জয় নয়, বরং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষার একটি বড় উদাহরণ। এখন থেকে কোনো ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই তিনি তার ব্যবসা এগিয়ে নিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: সিএনএন

