২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বৃষ্টি নামাতে না পারলে পুড়িয়ে-পিটিয়ে হত্যা

প্রতিদিনের ডেস্ক
বেশ কয়েক বছর ধরে জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ কবলে পড়েছে দক্ষিণ সুদান। গত কয়েক বছরের খরা মানুষের জীবিকা ধ্বংস করেছে দেশটিতে। যা ক্ষুধা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। আর কৃষিনির্ভর গ্রামগুলোতে মানুষের মধ্যে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ক্রোধও। সংকটের উত্তর খুঁজে না পেয়ে অন্যকে দোষারোপ করছে তারা। এই ক্ষোভ রেইনমেকারদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে না পেরে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অতুর। তিন-চার ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে তার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পালিয়েও পার পাননি। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন। গ্রামে ফেরার পরের দিন সকালে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘অতুর কোনো প্রতিরোধ করেনি। তাকে গ্রাম থেকে বাইরে এবং পর্বতের নিচে একটি সদ্য খনন করা গর্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জীবিতই কবর দেওয়া হয়।’ সলোমন অতুরের হত্যার খবর প্রথম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরে তার পরিবারের সদস্য, রাজ্যের রাজধানী তোরিতের সরকারি কর্মকর্তা এবং গ্রামের বাসিন্দাদের মাধ্যমে আল-জাজিরার কাছে নিশ্চিত হয়। শুধু অতুরই নয়, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও অনেকেই। সম্প্রদায়ের নেতাদের এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার দশকে লোপিত পর্বতমালায় অন্তত আরও পাঁচজন রেইনমেকারদের জীবিত কবর দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকার আরও অনেককে কবর দেওয়া হয়েছে, জীবিত পোড়ানো হয়েছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা বের করতে পারেনি আল-জাজিরা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়