বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সূচনা হয়েছে নতুন এক অধ্যায়ের। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সূচনা বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। দল-মত-নির্বিশেষে তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না এবং বিরোধ নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ হারানো সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশ ও বিদেশের বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। শুরুতে সংসদ নেতা তারেক রহমান দাঁড়িয়ে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। এরপর বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এগিয়ে চলে সংসদের কার্যক্রম। নির্বাচন করা হয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও নেত্রকোনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কায়সার কামাল।
বিরতির সময় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যালয়ে তাঁদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার নির্বাচিত হয়েই নিরপেক্ষতা রক্ষায় দলীয় পদ ছাড়েন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার হিসেবে রাখা প্রথম বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র।’ মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন এ সময় মুক্তিযুদ্ধের কিছু স্মৃতিচারণা করেন।
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ প্রদানের জন্য আহবান জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর প্রতিবাদ জানান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতি বক্তব্য প্রদান শুরু করলে অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁরা ওয়াক আউট করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বলেন, তিনি আশা করেন, বর্তমান সরকারের সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ ক্রমে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। অধিবেশনের প্রথম দিনই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। ওই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় একটি বিশেষ কমিটি। এই কমিটির সুপারিশের ওপর নির্ভর করছে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের পর সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। দেশের মানুষ আশাবাদী, এই সংসদ দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সংসদ ও এই সরকার মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।

