চিতলমারী সংবাদদাতা
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের দুই বংশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর, বসতবাড়ি লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এ খাদ্য সহায়তা তুলে দেন। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার তিন দিন পরও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পুরুষ শূন্য দুই বংশের বেশিরভাগ পরিবার। এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর নারী-শিশুসহ বয়স্করা। জানা যায়, মধুমতির নদীর চরের জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবককে ফুলকুচি (লোহার সিকের তৈরি এক ধরনের মাছধরা অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করে বিশ্বাস বংশের লোকেরা। পরে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে বিশ্বাস বংশের লোকেরা শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত ৪০টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর শেখ বংশের সদস্য রাজিব শেখ নিহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত শেখ পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি দিয়ে ২৮ মার্চ রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে চিতলমারী থানা পুলিশ বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় বিশ্বাস বংশের দু’জনকে গ্রেপ্তার ও রাম দা, টেঁটা, কাস্তেসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই এলাকার নিরীহ মানুষেরা জানান, ঘটনার তিনদিন পরেও আতঙ্কে রয়েছেন চিংগড়ী ও মচন্দপুর এলাকার মানুষই। গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া বিশ্বাস ও শেখ পরিবারের বেশিরভাগ পুরুষ সদস্য। আর বিশ্বাস পরিবারের নারীরা রয়েছেন শেখ পরিবারের হামলার শঙ্কায়। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “রবিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার দেওয়ার হয়েছে। আর যাদের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা আবেদন করলে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।” চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

