৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ডিজেল সংকটে ঝিনাইদহে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার শংকা

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় জ্বালানি তেল সংকট দিন দিন বেড়ে চলেছে। ফলে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার হেক্টর জমি থেকে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গুজব ছড়িয়ে জ্বালানি তেল মজুদ এবং প্রয়োজন ছাড়া একাধিকবার তেল নেওয়ার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে জেলার প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল না পেয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলায় মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকূপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি ও মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব স্টেশনে ডিজেলের জন্য ভিড় দিন দিন বাড়ছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, গ্রামের সহজ সরল মানুষেরা গুজবে কান দিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। আবার কেউ কেউ প্রয়োজন না থাকলেও সাধ্যমত অল্প অল্প করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে ফুয়েল স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন। একই সঙ্গে তেল কিনে বেশি দামে গ্রাম এলাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা ডিজেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষক সেজে ডিজেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।ঝিনাইদহের পোড়াহাটি এলাকার শরিফুল ফিলিং স্টেশনের মালিক শরিফুল ইসলাম জানান, আগে যেখানে দিনে ৪/৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হতো, এখন সেই চাহিদা বেড়ে তিন গুণের উপরে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংকটের মূল কারণ হলো গুজব।ঝিনাইদহ শহরের আরিফ ফিলিং স্টেশনের মালিক মারুফ হোসেন জানান, আসলে বাস্তবে বড় কোনো সংকট নেই। সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। কিন্তু গুজবের কারণে চাহিদা দিন দিন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানিয়েছেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। সার্বক্ষণিক তদারকি চলানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৭টি অভিযান চালিয়ে ১১টি ফুয়েল স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। সংকট মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়