১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় নানামুখী পদক্ষেপ

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পাম্পগুলোতে পরিবহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের অসহিষ্ণু আচরণ, সংঘাত-সংঘর্ষ, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। শুধু পরিবহন নয়, বোরো জমিতে সেচ প্রদান, জ্বালানি তেলভিত্তিক কারখানা—সর্বত্রই হাহাকার চলছে।
অন্যদিকে কিছু লোভী মানুষ এই সংকটকে দেখছে অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ হিসেবে। তারা তেল নিয়ে বাড়িঘরসহ নানা স্থানে মজুদ করছে। অভিযানে অবৈধ মজুদের বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধারও হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই জ্বালানিসংকট প্রবল হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে; অন্যদিকে চাহিদামতো তেল পেতেও সমস্যা হচ্ছে। এই অবস্থা কত দিন চলবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। ফলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন।সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। স্কুলগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে এবং তিন দিন অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতিরিক্ত তেল কেনা ও মজুদদারি বন্ধ করতে সব ধরনের পরিবহনের জন্য ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত বাজারের বাইরে নানা উৎস থেকে তেল আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।সরকার জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বেশ কিছু নিয়ম-কানুন প্রবর্তন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়। রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে। পরে সেখানে ব্রিফিংয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দেশের সব ধরনের দোকানপাট, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। নাসিমুল গনি জানান, সরকারি কিছু ব্যয় কমানো হচ্ছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকারি কোনো নতুন যানবাহন, জলযান, আকাশযান, কম্পিউটারসামগ্রী ক্রয় করা হবে না। বিবাহ বা কোনো উৎসব উপলক্ষে আলোকসজ্জা করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। খাবারের দোকান, ওষুধের দোকানের মতো জরুরি কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম সরকারের ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রতিটি গাড়ির জন্য দৈনিক বা নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা গেলে এবং একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ সীমিত করা গেলে অপব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে মজুদ করে বিক্রির প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। চাল, চিনি বা ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও অতীতে একই চিত্র দেখা গেছে। তাই সরকারকে যেমন কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে, তেমনি সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয় মজুদ থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলা করা সহজ হবে।’
মনে রাখতে হবে, জ্বালানিসংকটের কারণ, সমাধান বা নিয়ন্ত্রণ কোনো কিছুই আমাদের হাতে নেই। সংকটের প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে প্রত্যেককে সাধ্যমতো মিতব্যয়ী হতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়