৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভন্ড চুয়াডাঙ্গা: প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
হঠাৎ নেমে আসা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তিতে একদিকে যেমন প্রাণ হারাতে হয়েছে এক বৃদ্ধকে, অন্যদিকে প্রশাসন ও স্থানীয়দের মানবিক সহযোগিতায় দ্রুত স্বাভাবিক করা হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। নিহত মকলেছুর রহমান (৬৫) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঝড়ের তীব্রতা বাড়লে বাড়ির টিনের চাল সামাল দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। প্রচণ্ড বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঝড়ের সময় জেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। তবে দ্রুত খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ সরিয়ে ফেলেন। তাদের এই তাৎক্ষণিক উদ্যোগে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়—যা দুর্যোগ মুহূর্তে মানবিক সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঝড়ের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, রাত ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার ছিল। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এদিকে এমন আকস্মিক ঝড়ের ঘটনায় সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কালবৈশাখীর সময় অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না ওঠা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, মকলেছুর রহমানের মৃত্যু সেই সতর্কবার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল। দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যেমন স্বস্তি এনে দেয়, তেমনি সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনতে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়