প্রতিদিনের ডেস্ক:
পণ্যের অতিউৎপাদন ও জোর করে শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না- এসব বিষয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৯ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানি শুরু হবে বলে জানা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে এই শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআরের সঙ্গে এই শুনানি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬ দেশের বিরুদ্ধে এ তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।শুনানির বিষয়ে গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক হয়েছে। যেখানে দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা উৎপাদনের প্রবণতা নেই বলে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমের কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণে এসেছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুনানিতে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হবে।গত মাসে ইউএসটিআর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১- এর অধীনে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো- এসব দেশের বাণিজ্য নীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থা বিশ্ববাজারে এমন কোনো অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করছে কি না, যা মার্কিন উৎপাদন খাতের ক্ষতি করতে পারে।ওয়াশিংটন মূলত তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মার্কিনিদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বাজারে ৮৬৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ।গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। চলতি বছর তা কমে ১৯ শতাংশে আসে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এ পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পরদিন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।এছাড়া গত ১১ মার্চ উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।

