২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবনে নাভিশ্বাস

বাজার ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণ বা পণ্যমূল্য যৌক্তিক রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর তেমন কোনো ভূমিকাই চোখে পড়ে না। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, এলপিজি, সবজিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।নিয়ন্ত্রণের অভাবে আমাদের বাজারে নানা ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করে। মজুতদারির মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয় এবং দাম বাড়িয়ে যথেচ্ছা মুনাফা করা হয়। বাজারে দাম বাড়ানোর জন্য আমাদের ব্যবসায়ীদের অজুহাতের অভাব হয় না।
আর এখন তো তাদের সামনে বড় ধরনের অজুহাত চলে এসেছে। সেটি হলো মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং পণ্য আমদানির স্বাভাবিকতা ব্যাহত হওয়া। কিন্তু আমাদের বাজারে এখনো যুদ্ধের আগে আমদানি করা পণ্যেরই সরবরাহ চলছে এবং আরো কিছু দিন চলবে। তারপরও এই দাম বৃদ্ধি কেন? এটা ঠিক, দেশে জ্বালানি তেল পেতে কিছু সমস্যা হচ্ছে।
কিন্তু এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ খুব একটা বাড়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সংস্থা রয়েছে। তারা কি হিসেব করে দেখেছে, অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন ব্যয় কত শতাংশ বেড়েছে এবং তার প্রভাবে বাজারে পণ্যের মূল্য কত শতাংশ বেড়েছে? প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, বাজারে বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে, যা এক মাস আগেও ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। বাজারে ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে।
খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দেখুক, এসব তেল কবে আমদানি হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং বাজারে এসব তেলের দাম কতটা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসে। এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তরি-তরকারির দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৮.৫৮ শতাংশ। অথচ ফেব্রম্নয়ারিতে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কোনো সম্পর্কই ছিল না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে মূল্য বৃদ্ধির পেছনে বাস্তব কারণের চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে অদৃশ্য সিন্ডিকেট ও কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর মিলিত প্রভাব।
আমরা মনে করি, বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়াতে হবে। টিসিবিকে আরো কার্যকর করতে হবে। বাজার সহনীয় রাখতে নিয়মিত তদারকি ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়