৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

চিকিৎসার জন্য আর ঢাকামুখী হতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিদিনের ডেস্ক:
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বড় ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) আদলে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করা হবে এবং সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’।যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই হবেন নারী।শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিরোধ ব্যবস্থাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার মৌলিক ভিত্তি।‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’-এই নীতিকে সামনে রেখে আমরা স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোগের বিস্তার রোধে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।চিকিৎসা খাতের আধুনিকায়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।এরই অংশ হিসেবে ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ, আজকের স্বাস্থ্যসেবাই ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগ।দেশের স্বাস্থ্যসেবা শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবই শহরকেন্দ্রিক। এই বৈষম্য দূর করতে আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করছি। ফলে রোগীদের আর আর্থিক ও শারীরিক কষ্ট করে ঢাকামুখী হতে হবে না। স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।এছাড়া প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার শিগ্‌গিরই একটি সমন্বিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। এতে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হবে, যেন চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে কোনো নাগরিককে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়।দেশের ৭১ শতাংশ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবনযাপনের ধরনের কারণে শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক ও হৃদরোগ বাড়ছে। উপজেলা পর্যায়েই এখন থেকে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত স্ক্রিনিং করা হবে। সেই সঙ্গে ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে বলেও জানান তারেক রহমান।চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার রোগীর কাছে ওষুধের মতো কাজ করে। আপনাদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক হওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের আবাসন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সজাগ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
বিগত সময়ে হামের টিকা নিয়ে সৃষ্ট সংকটের কথা স্মরণ করে তিনি একে ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ ও ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, চিকিৎসা পাওয়া নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, এটা রাষ্ট্রের করুণা নয়, বরং কর্তব্য। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে জবাবদিহিমূলক এবং একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করার সরকারি পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে সারাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাগণ ছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়