৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জ্বালানি তেল না পেয়ে যুবদল নেতার পাম্পে তেলবাহী গাড়ি লুটের হুমকি: পুলিশ নির্বিকার

উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মটরসাইকেলের জ্বলানী না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের তেলবাহী গাড়ী লুটসহ মালিককে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী শহিদুন-নবী বাবুর বিরুদ্ধে। ১৮ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহীদুন-নবী নামের এক যুবদল নেতা প্রায় ৪০/৫০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে শ্যামনগরের খানপুর এলাকার অবস্থিত শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে পৌছে এমন হুমকি দেন বলে অভিযোগ।এঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর একটায় ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে হুমকিদাতাসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন। এসময় শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বিলাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা শ্যামনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ জনগুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ করছেন। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে তাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেচকার্য্য সম্পাদনের জন্য বরাদ্দ অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করছেন।লিখিত বক্তব্যে বিলাল হোসেন আরো দাবি করেন, আকস্মিকভাবে শনিবার সকালে পাশবর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের শতাধিক ব্যক্তি ৫০টি মটরসাইকেল নিয়ে জ্বলানী নিতে ভিড় করে। এসময় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা শ্যামনগরবাসীর জন্য জ্বালানী সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে উশৃঙ্খল আচারণ শুরু করে। একপর্যায়ে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী বাবু নিজ এলাকায় খবর পাঠিয়ে আরও দুই শতাধিক মটরসাইকেল আনিয়ে গোটা ফিলিং স্টেশনের জ্বলানী সরবরাহ ব্যবস্থাসহ মহাসড়ক বন্ধ করে দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।এঘটনায় শ্যামনগর থানা পুলিশের কাছে বার বার সহযোগীতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান। পরবর্তীতে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে শহীদুন-নবী বাবু ও তার কর্মী সমর্থকরা ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করে ইচ্ছামত জ্বলানী সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তাদের তেলবাহী গাড়ী লুটের হুমকি দেন।বিলাল হোসেনের অভিযোগ ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকালে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী ও তার অনুসারীরা যাতায়াতের পথে মৌতলা পৌছোলে মালিকের ব্যক্তিগত গাড়ী ভাংচুরসহ তেলবাহী গাড়ী লুট করবে বলে হুমকি দেয়। এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন- উল্লেখ করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তদারকিতে জ্বলানী সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করবেন বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিলাল হোসেন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহারের কথা বলে কয়েকটি রেজিষ্ট্রেশনহীন মটরসাইকেলের জন্য প্রত্যায়নপত্র দিয়ে সুপারিশ জানিয়েছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা মেনে জ্বলানী সরবরাহের কারনে রেজিষ্ট্রেশন না থাকা মোটরসাইকেলে পেট্রোল দিতে না পারায় তারা ক্ষুব্ধ হন। যারপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় মুহুর্তে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও অফিসার ইনচার্জের সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়