৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোলে অবৈধভাবে ভায়াগ্রা আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এক মাসেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কাস্টমস : মামলা হয়নি কার স্বার্থে?

সুন্দর সাহা
বেনাপোল স্থল বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ভায়াগ্রা ও ওষুধের অবৈধ চালান ধরা পড়ার পরও সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ-এর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগের বিষয়। এটি শুধু আইনি শিথিলতা নয়, বরং বন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈধ বাণিজ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করে। পণ্য আমদানির পর পেরিয়ে গেছে ৩০ দিন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বেনাপোল কাস্টমস কতৃপক্ষ এখনও কোন ফৌজদারী মামলা করেনি। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিন এর মধ্যে এসব পণ্য আমদানিকারক গ্রহন না করলে নিলামে উঠার কথা থাকলে নিলামেও উঠেনি। আর এসব চালান আমদানির সাথে কাস্টমস ও বন্দরের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির ফলে যেসব নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যখন আমদানিকারক বা সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা (যেমন লাইসেন্স বাতিল বা ফৌজদারি মামলা) নেওয়া না হয়, তখন অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়। এতে বৈধ পণ্যের আড়ালে নিষিদ্ধ বা শুল্কফাঁকি দেওয়া পণ্য আনার প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। নাম প্রকাশ ন করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যকে কম শুল্কের ঘোষণা দিয়ে পার করে দেওয়ার সাহস পাচ্ছে। এছাড়া অবৈধ ভায়াগ্রা বা ওষুধের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের চোরাচালান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পুরো বন্দর বা ব্যবসায়ী সমাজের ওপর নজরদারি ও তল্লাশির চাপ বাড়ে। এতে সাধারণ ও সৎ আমদানিকারকদের পণ্য খালাসে সময় বেশি লাগে এবং ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধি পায়। বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। এখানে যদি চোরাচালান রোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এটায় স্বাভাবিক। বেনাপোল স্থল বন্দরের সাধারন ব্যবসায়িরা জানান এ ধরনের চালানের সাথে জড়িত আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে স্থগিত করা এবং মামলা দায়েরের পর আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বন্দরের শেড এবং স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা। এসব বিষয় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। উল্লেখ্য গত ১৫/০৩/২৬ ইং তারিখে আরাফাতা এন্টারপ্রাইজ নামে ঢাকার একটি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ১৯০৪২ নং বিল অব এন্ট্রির মাধ্যেমে বেনাপোল স্থল বন্দরের ৩২ নং ক্যামিকেল শেডে আমদানিকৃত কোয়ার্টাজ পাউডার এর পরিবর্তে ঘোষনা বহির্ভুত ভায়াগ্রা ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে ৪৬৯ প্যাকেজ। যার সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের হায়দার এন্ড সন্স। মিথ্যা ঘোষনা দেওয়া ওই সব প্যাকেজে রয়েছে অনুমতি ছাড়াই ভায়াগ্রা ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরীতে যা ব্যবহার করা হয়। এক ধরনের এনার্জি ডিংক তৈরীতে ভায়াগ্রার কাঁচামাল মেশানো হয়। এসব এনার্জি ড্রিংক সেবন করলে সেবনকারীরা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। বেনাপোলের হায়দার এন্ড সন্স নামক সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্সে দীর্ঘদিন ধরে ঘোষনা বহিঃর্ভূত-ঘোষণার অতিরিক্ত এবং অবৈধ পণ্য খালাসে ব্যবহৃত হয়। ইতিপূর্বে লাইসেন্সটি এসব অপকর্মের কারণে স্থগিতও করে বেনাপোল কাস্টমস। পরে আবার বিশেষ ব্যবস্থায় সেটি ফেরতও পায়। তাছাড়া এসব অবৈধ পণ্য আমদানিতে সিএণ্ডএফ এজেন্ট নানাজনের নাম ব্যবহার করে নিজেকে অপকর্মের দায় থেকে রক্ষা করেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা জানেনও না এই পণ্য তাদের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। অবৈধ এই ভায়াগ্রার চালানেও তেমন নিরীহ মানুষজন জড়িয়ে মাল খালাশের সময় ধরা পড়েছে।এ বিষয় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের শুল্ক গোয়েন্দা এ আরও ফয়সাল মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা খুলনা কুয়েটে টেষ্টে পাঠিয়েছি। সেখানে টেষ্টের জন্য এখনো আমদানিকারন আরাফাতা এন্টারপ্রাইজ কোন টাকা জমা না দেওয়ায় টেষ্ট হচ্ছে না। এর আগে ৭ টি টেষ্টে তাদের কোয়ার্টজ পাউডার বাদে ৬টিতে ধরা পড়ে ঘোষনা বাহির্ভূত ভায়াগ্রাসহ ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল। স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছে, স্থল বন্দরের ৩২ নং শেডে রয়েছে শেড ইনচার্জ বিতর্কিত জাভেদ-ই বিল্লাহ। এর আগেও সে এই বন্দরে থাকার সময় দুর্নীতিবাজ আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট তার যোগসাজসে ভারত থেকে অবৈধ পণ্য নিয়ে আসত ঘোষনা বহির্ভুতভাবে। তার নামে ব্যপক অভিযোগ থাকায় তাকে এখান থেকে বদলী করা হয়। আবারও সে নানা কলা কৌশলে বেনাপোল স্থল বন্দরে যোগদান করে। সম্প্রতি স্থল বন্দরে এরকম নানা ধরনের ঘোষনা বাহির্ভুত পণ্য আমদানিকরায় ৪ টি লাইসেন্স স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আরও ৬টি লাইসেন্স স্থগিতের প্রক্রিয়া চলছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়