মাসুম বিল্লাহ, কেশবপুর
কেশবপুরে চিকিৎসা জগতের সকলেের প্রীয়মুখ ডাঃ কামরুজ্জামান (৫৫) আর বেঁচে নেই। গতকাল ঢাকার হার্টফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে কেশবপুর বাসীর এক অমূল্য মানবিক সম্পদ হারিয়েছে। কেশবপুরে কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এক মানবিক ডাক্তার কামরুজ্জামান। কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের হাড়িয়াঘোপ গ্রামে কৃষক প্রয়াত লুকমান মোল্লার পুত্র। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে ঢাকার নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করেন। আর তিনি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেটিকস বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক। এর আগে তিনি কেশবপুর সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ছিলেন। এরপর থেকে তিনি কেশবপুর হোসেন প্যাথলজি এন্ড হাসপাতালে ও তাঁর জন্মভূমি সুফলাকাটী ইউনিয়ন নিয়মিত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতেন। তিনি ডাক্তার হওয়ার পর তাঁর বাবা বলেছিলেন গ্রামের মানুষকে সেবা করতে। শত ব্যস্থতার মাঝেও তিনি বাবার কথা রাখতেন। কোন প্রকার ফি ছাড়াই নিজ এলাকার বাড়িতে রোগী দেখতেন। কেশবপুরের মানুষের মাঝে হয়ে উঠেছিলেন প্রিয় মুখ। মুখের হাসিতেই মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রীয় করে তুলে ছিলো। অসহায় রোগীর সেবা করতে করতে নিজের দিকে লক্ষ্য করেননি কখনো, তাইতো বড় অসময়ে চলে গেলেন। ভালো মানুষগুলো সত্যিই এইভাবে যেন তাড়াতাড়ি চলে যান। তাঁরমতো আন্তরিক ও হাসিমাখা নিয়ে মানুষ খুব কম হয় জগতে। তাইতো স্ত্রী তাঁর মেয়েকে বলেছেন-তোমার দাদা কৃষক ছিলেন তোমার বাবাকে ডাক্তার বানিয়েছেন, তাহলে তুমি বুঝে দেখো তোমার লেখাপড়া কেমন করতে হবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তাঁর সন্তানেরা যেন বড় মানুষ হয়। তাঁর অকাল মৃত্যুতে কেশবপুর বাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও যশোর-৬ কেশবপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী, তাঁর শিশুকালের বেতিখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (অবঃ) মোঃ শহিদুল ইসলাম, সুফলাকাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মনজুরুল ইসলাম, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ প্রমুখ। তাঁরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

