প্রতিদিনের ডেস্ক:
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে ডিএসইতে দুই মাস পর এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দেখা মিলেছে।এর আগে সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে এসে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। আর চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বাড়লো।এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ ধরা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওযার পাশাপাশি ডিএসেইতে সবকটি মূল্যসূচকের মোটামুটি বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১২১টির। আর ৫৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৩০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫১টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৯টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে এবং ১১টির দাম কমেছে ও ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯২৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারির পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে লেনদেন হয় ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- একমি পেস্টিসাইড, মুন্নু ফেব্রিক্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, লাভেলো আইসক্রিম, অগ্নি সিস্টেম, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্স।অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯১টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

