প্রতিদিনের ডেস্ক:
প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ২৮ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের সেরাটা দিয়ে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চান।মোস্তাফিজ ও তাসকিনদের বিশ্রামের ফলে পাওয়া এই সুযোগটি কাজে লাগানোর লক্ষ্য তার। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস তার সঙ্গে যোগাযোগ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাই বেশ খুশি তিনি। রাজশাহীতে বিসিএলের ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময়ই জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সুখবর পান সাকলাইন। খবরটি পেয়ে তিনি ভীষণ আনন্দিত হন। তার ক্রিকেট যাত্রা অন্যদের মতো বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দিয়ে নয়, বরং টেপ টেনিস দিয়ে শুরু। সাম্প্রতিক বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ভালো পারফরম্যান্সের ফল হিসেবেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
দলে সুযোগ পাওয়ার পর লিটন দাস ফোন করে তাকে অভিনন্দন জানান, যা সাকলাইনের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। ব্যক্তিগত জীবনে বাবাকে হারিয়েছেন তিনি; মা তাকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন সংযত থাকেন এবং সুযোগটাকে কাজে লাগান। সাকলাইন জানিয়েছেন, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তার জন্য আল্লাহর আশীর্বাদ। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন ভালো পারফর্ম করার। বড়দের অনুপস্থিতিতে তাদের জায়গা পূরণের দায়িত্বও নিতে চান তিনি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে খেলেছেন। উত্তরবঙ্গের সৈয়দপুরের এই ক্রিকেটার বোলিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত রান তোলার সক্ষমতাও রাখেন। অভিষেক ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
অন্যদিকে সাবেক নির্বাচক হান্নান সরকার মনে করেন, সাকলাইন ও রিপনের মতো তরুণদের সুযোগ দেওয়া বিসিবির সাহসী সিদ্ধান্ত। তার মতে, ২০২৮ সালের টি-টিয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে তুলতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হান্নান আরও বলেন, সাকলাইনের বোলিংয়ের বৈচিত্র্য ও ব্যাটিংয়ের পাওয়ার হিটিং তাকে দলে নেওয়ার বড় কারণ। তিনি দেশীয় ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেমন করেন সেটাই দেখার বিষয়। বিসিবির এই পরিকল্পনাকে তিনি সময়োপযোগী ও সঠিক পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন।

