প্রতিদিনের ডেস্ক:
বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসেছে। এ নিয়ে চলতি মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং চলতি বছরে ৪২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এলো। আগামী ২৬-২৭ মার্চ আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই কার্যক্রমের দায়িত্বে নিয়োজিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে আসা সম্পন্ন হয়এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্রের পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ৮ হাজার মেট্রিক টন, ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং আজ ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। এ নিয়ে মোট তিনটি চালানে চলতি মাসে ডিজেল আসলো ২০ হাজার মেট্রিক টন।এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ডিজেল এসে পৌঁছায় বাংলাদেশে।ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এই তেল সরবরাহ করা হয়।উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সারাবছর ডিজেল সরবরাহ রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমঝোতা চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূ-গর্ভস্থ এই পাইপলাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়।২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

