১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

শরণখোলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজনকে কুপিয়ে হত্যা

শামীম হাসান সুজন, শরণখোলা
বাগেরহাটের শরণখোলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আব্দুল হানিফ হাওলাদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শরণখোলা উপজেলার ২ নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মোঃ আমজাদ হাওলাদারের ছেলে মোঃ আবু হানিফের সাথে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের মৃতঃ আসমত আলী হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদারের সাথে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ শুক্রবার সকালে বাবুল হাওলাদারের তার কাটা দিয়ে ঘেরাও জমিতে মোঃ আবু হানিফ তারকাটা দা দিয়ে কাটতে গেলে বাবুল হাওলাদারের দুই ছেলে রাজ্জাক ও রাফি বাধা দিলে তখন তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। নিহত আবু হানিফের বাবা মোঃ আমজাদ হাওলাদার বলেন রাজ্জাক ও রাফি আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। রাফি দা দিয়ে আবু হানিফ এর হাতে কোপ দিলে মোঃ আবু হানিফ আহত হন। কিছু সময় পর আহত আবু হানিফ নিজে হেঁটে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন। এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মোঃ আবু হানিফ। শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশিন জানিয়েছেন, হাড়সহ হাতের কব্জি কাটা অবস্থায় হানিফ নিজেই সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। দ্রুত তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় তাকে। আহত ব্যক্তির সঙ্গে কেউ হাসপাতালে আসেননি। তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেলে না নেওয়ায় সকাল ১০টার দিকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই হানিফ মারা যান। অনেকগুলো শিরা কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে নিহত মোঃ আবু হানিফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিক শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সামিনুল হক শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঘটনাস্থলে সাব ইন্সপেক্টর বিনয় কুমার হালদার সহ পুলিশ সদস্যদের পাঠান। মোঃ আবু হানিফকে কুপি হত্যার অভিযোগের বিষয়ে বাবুল হাওলাদারের ছেলে রাজ্জাক ও রাফি বলেন আবু হানিফের মাথায় সমস্যা রয়েছে। তিনি এলাকার সবার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। অন্যের জমি নিজের বলে দাবি করেন। আজ সকালে আমাদের জমিতে তারকাটা দিয়ে বেড়া দেওয়া সেই তারকাটা মোঃ আবু হানিফ দা দিয়ে কেটে ফেলে। আমরা বারণ করলে আবু হানিফ দা নিয়ে আমাদের দুই ভাইকে কোপাতে আসে। তখন আমরা ঠেকাতে গেলে তার নিজের দায়ের কোপে তার হাত কেটে যায়। মোঃ আবু হানিফকে আমরা দুই ভাই মারিনি। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সামিনুল হক বলেন নিহত মোঃ আবু হানিফের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য প্রেরন করা হয়েছে । অভিযুক্ত আসামিদের ধরার জন্য অভিযান চলছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়