১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

লোডশেডিংয়ের বৈষম্য: গ্রাম ও শহরের মাঝখানে আঁধার কতটুকু?

ড. হারুন রশীদ
সখীপুর থেকে এক অনুজপ্রতীম সংবাদকর্মী ফোন করে জানালো তার এলাকার করুণ চিত্র। গত ২৩ এপ্রিল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিহীন। তবে এই সমস্যা কেবল এক দিনের নয়; প্রতিদিনের চিত্রও প্রায় একই। দিনরাত মিলিয়ে বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ এখন বলে না ‘বিদ্যুৎ গেল’, বরং ‘কখন আসে’—সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।
সত্যি বলতে কী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার প্রধান অনুষঙ্গ। গত এক দশকে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ আমাদের চোখে রঙিন স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিল। ঘরে ঘরে বিজলি বাতি পৌঁছে যাওয়ার খবরটি ছিল এক বিরাট স্বস্তির নাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই স্বপ্নের ওপর এখন লোডশেডিংয়ের ঘন কালো ছায়া। বিশেষ করে গত দুই বছরে বিদ্যুৎ সংকটের যে ভয়াবহতা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা আমাদের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকটের সবচেয়ে নিষ্ঠুর দিকটি হলো ‘বৈষম্য’—শহর ও গ্রামের মধ্যকার প্রকট ব্যবধান।
সংকটের পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার রূপরেখা
পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি (আমদানি করা বিদ্যুৎসহ)। কিন্তু খাতা-কলমের এই বিশাল সক্ষমতা রূঢ় বাস্তবতার কাছে পরাজিত। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের পিক-আওয়ার চাহিদা প্রায় ১৬,৫০০ থেকে ১৭,৫০০ মেগাওয়াট। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন হচ্ছে ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ মেগাওয়াটের আশেপাশে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াটের ঘাটতি থাকছে।এই পরিসংখ্যানটি যদি একটি লেখচিত্র বা গ্রাফের মাধ্যমে কল্পনা করি, তবে দেখা যাবে যে গত পাঁচ বছরে আমাদের ‘ইনস্টলড ক্যাপাসিটি’ বা উৎপাদন সক্ষমতার রেখাটি খাড়া ওপরের দিকে উঠলেও ‘একচুয়াল প্রোডাকশন’ বা প্রকৃত উৎপাদনের রেখাটি অনেক নিচে পড়ে আছে। সক্ষমতা ও উৎপাদনের এই যে বিস্তর ফারাক, একেই বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ খাতের ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এর মূল কারণ হলো জ্বালানি সংকট এবং অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গুনতে থাকা বিশাল অংকের ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’।
শহর ও গ্রামের আলোক-আঁধারি বৈষম্য
বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য এখন এক অমানবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে সরকার চেষ্টা করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রিত রাখতে। ডেসকো বা ডিপিডিসি এলাকায় দিনে হয়তো ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে, যেখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (আরইবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, সেখানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
চলতি বছরের গরমে গ্রামাঞ্চলের অনেক জায়গায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। যখন তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তখন শহরের মানুষ এসি বা আইপিএস’র নিচে কিছুটা স্বস্তি পেলেও গ্রামের সাধারণ মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে ছটফট করেন। এই বৈষম্যের একটি ভয়াবহ দিক হলো উৎপাদনশীল খাতে এর প্রভাব। একটি তুলনামূলক কেস স্টাডি করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়-
• শহরের কেস স্টাডি: ঢাকার মিরপুরের একটি মেস বা ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা হয়তো দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনা বা ফ্রিল্যান্সিং কাজে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ করছেন। এটি অবশ্যই একটি সমস্যা, যা তাদের উৎপাদনশীলতা কমাচ্ছে।
• গ্রামের কেস স্টাডি: উত্তরবঙ্গের নীলফামারীর কৃষক রহমত আলীর (ছদ্মনাম) জীবন আরও কঠিন। তার দুই বিঘা জমির সেচ নির্ভর করে গভীর নলকূপের ওপর। লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের বেলা তিনি পানি পান না। যখন রাত ২টায় বিদ্যুৎ আসে, তখন সেই গভীর রাতে সাপ-খোপের ভয় উপেক্ষা করে তাকে মাঠে যেতে হয়। আবার ভোল্টেজ কম থাকার কারণে অনেক সময় তার সেচ পাম্পের মোটর পুড়ে যায়। এই ক্ষতি কেবল রহমত আলীর নয়, এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর আঘাত।
অর্থনৈতিক অভিঘাত: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংকট
লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমএসএমই (MSME) বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত। সাভার, নরসিংদী বা কুষ্টিয়ার তাঁত শিল্প ও ক্ষুদ্র কারখানাগুলো এখন ধ্বংসের মুখে। নরসিংদীর একজন পাওয়ারলুম মালিকের কথা ধরা যাক। তার কারখানায় দিনে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন কমে যায় অর্ধেক। অথচ শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকের ঋণের কিস্তি ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে কেবল বিকল্প উৎস হিসেবে জেনারেটর বা ডিজেল ব্যবহারের কারণে। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের পকেট থেকেই যাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে। দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শিল্প খাতের যে অবদান, তা এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাজেট ও নীতিমালার অলিগলি
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ২২,৫২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দের চেয়ে বড় সমস্যা হলো এর ব্যবস্থাপনা। বিগত বছরগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে, কিন্তু সেই কেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি (গ্যাস বা কয়লা) আমদানিতে ডলারের সংস্থান রাখা হয়নি।
বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’। গত ১৫ বছরে এই খাতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ওপরে অর্থ ব্যয় হয়েছে কেবল কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রাখার জন্য। সরকার সম্প্রতি ‘বিশেষ বিধান আইন’ বাতিল করেছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এখন প্রয়োজন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদ্যুৎ কেনা এবং আদানি বা অন্যান্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে হওয়া অসম চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিকল্পের সন্ধান
আমাদের বিদ্যুৎ সংকটের মূলে রয়েছে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। আমরা আমাদের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে গত দুই দশকে চরম অবহেলা করেছি। বঙ্গোপসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সম্পদ থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তা উত্তোলনে আমরা পিছিয়ে আছি। এখন সময় এসেছে ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগানোর।
পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বে এখন সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের খরচ কয়লা বা গ্যাসের চেয়েও কম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি বাড়ির ছাদ এবং অনাবাদী জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে ‘জাতীয় গ্রিড’র ওপর চাপ কমানো সম্ভব। ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো সৌরবিদ্যুতে যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, আমরা কেন তা পারছি না, সেই আত্মোপলব্ধি জরুরি।
লোডশেডিংয়ের বৈষম্য: গ্রাম ও শহরের মাঝখানে আঁধার কতটুকু?
উত্তরণের দীর্ঘমেয়াদী পথনকশা
লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের একটি ত্রিমুখী কৌশল অবলম্বন করতে হবে
১. জ্বালানি বৈচিত্র্য: কেবল আমদানি করা এলএনজি বা কয়লার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব খনি থেকে গ্যাস উত্তোলন ত্বরান্বিত করতে হবে। অন্তত ৪০-৫০টি নতুন কূপ খননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
২. সঞ্চালন লাইনের আধুনিকায়ন: আমাদের অনেক সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থার কারণে। সিস্টেম লস এবং বিদ্যুৎ চুরি বন্ধে স্মার্ট গ্রিড ও প্রিপেইড মিটার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সুষম বণ্টন ও অগ্রাধিকার: লোডশেডিং যদি করতেই হয়, তবে তা শহর ও গ্রামের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করতে হবে। কৃষি মৌসুম ও শিল্পাঞ্চলকে ‘লোডশেডিং মুক্ত জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। কেবল ভিআইপি এলাকা বা বড় শহরকে আলোকিত রেখে গ্রামকে অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখা কোনো টেকসই সমাধান নয়।
লোডশেডিং হবে ঢাকায়ও
এদিকে জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং শহর ও গ্রামের মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টনের বৈষম্য ঘোচাতে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবের কারণেই বর্তমানে দেশের কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সহনীয় মাত্রায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই রাজধানী ঢাকায়ও এই পরীক্ষামূলক লোডশেডিং শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং চালুর সরকারি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রস্তাব করেন যে, লোডশেডিং যদি ঢাকাজুড়ে কার্যকর করা হয়, তাহলে জাতীয় সংসদ ভবনকেও এর আওতায় আনতে হবে। তার যুক্তি—রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র যদি এই ব্যবস্থার বাইরে থাকে, তবে জনগণের কাছে সমতার বার্তা পৌঁছাবে না। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকায় যদি এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে, তাহলে সংসদেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত, যাতে বোঝা যায়—সবাই একই বাস্তবতার অংশ।
এছাড়া, দেশের এই চলমান সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে এই কমিটির সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি দল থেকে ইতোমধ্যে পাঁচজন সদস্যের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের পক্ষ থেকেও পাঁচজন সদস্যের নাম দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে নাম দেওয়ার আশ্বাস দেন।উল্লেখ্য, গত বুধবার জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই এই কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকারি দল।
লোডশেডিং কেবল একটি কারিগরি ত্রুটি নয়, এটি আমাদের পরিকল্পনার ব্যর্থতার স্মারক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শহর ও গ্রামের মানুষের নাগরিক সুবিধার অধিকার সমান। উন্নয়নের সুফল যদি কেবল শহরের উঁচু দালানে সীমাবদ্ধ থাকে আর গ্রামের কুঁড়েঘর অন্ধকারে ডুবে থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কখনোই সর্বজনীন হবে না। সরকারকে বুঝতে হবে, ডলার সাশ্রয়ের নামে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে আমরা কৃষি ও শিল্পের যে ক্ষতি করছি, তা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটের জন্ম দেবে। সময় এসেছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাত ঢেলে সাজানোর। আঁধার সরিয়ে আমরা কি পারব একটি সত্যিকার অর্থেই ‘আলোকিত বাংলাদেশ’ গড়তে? উত্তরটি নির্ভর করছে আমাদের আগামী দিনের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়