১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বৃষ্টির আশঙ্কায় রাজগঞ্জে বোরোধান ঘরে তুলতে দৌড়ঝাঁপ, শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
আকাশে মেঘের ঘনঘটা, তারই মাঝে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টির ফোঁটা। এমন অনিশ্চিত আবহাওয়ায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। মাঠে কেটে রাখা শুকনো ইরি-বোরো ধান দ্রুত ঘরে তুলতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজগঞ্জের বিভিন্ন মাঠে কাটা ধান শুকানোর জন্য রাখা হয়েছে। কিন্তু আকাশের মেঘলা আবহাওয়া ও আকস্মিক বৃষ্টির কারণে ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা। সামান্য বৃষ্টিতেই শুকনো ধান ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রাজগঞ্জ এলাকার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, সারাবছরের খাবার, কষ্ট করে ফলাইছি। এখন যদি বৃষ্টিতে ভিজে যায়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। তাই রাত-দিন এক করে ধান তুলতেছি। আরেক কৃষক নুর ইসলাম জানান, ধান কাটার পর শুকানোর সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই সময়েই যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে অনেক ক্ষতি হয়। শ্রমিকের অভাবে ঠিকমতো কাজও করা যাচ্ছে না।এদিকে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরি কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, আগে যেখানে শ্রমিকের মজুরি ছিল ৫০০-৬০০ টাকা, এখন দিতে হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকা। এত খরচ দিয়ে ধান তোলা খুব কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এসএম মারুফুল হক বলেন, বর্তমান আবহাওয়ায় কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ত্রিপল ব্যবহার করে ধান ঢেকে রাখা যেতে পারে, যাতে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোরও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে অনিশ্চিত আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে রাজগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম দুশ্চিন্তা। দ্রুত ধান ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়